ইন্দ্রনীল দত্ত অধ্যায় ১: কলকাতার উপকণ্ঠে একটা জায়গা আছে যেখানে শহরের শব্দ পৌঁছায় না ঠিকভাবে, শুধু হঠাৎ হঠাৎ ফ্লাইওভারের গম্ভীর গর্জন এসে কানে বাজে। সেখানে রয়েছে একটা ছোট্ট বস্তি—মাটির ঘর, টিনের চাল, বালতিভর্তি বৃষ্টির জল, আর সরু অলিগলি। এই জায়গার নাম বস্তির লোকেরা ‘জিন্নাহ কলোনি’ বলে ডাকে, যদিও কারো আধিকারিক কাগজে সেই নামে কিছু নেই। এখানকার ঘুম ভাঙে অ্যালুমিনিয়ামের প্লেটের ঠুং ঠাং শব্দে, রান্নাঘরের আগুনের শিখায়, আর এক অন্যরকম শব্দে—ফুটবলের শব্দে। হ্যাঁ, প্রতিদিন ভোর পাঁচটা বাজলেই বস্তির মাঠে শুরু হয় এক আশ্চর্য দৃশ্য। ধুলো আর শিশিরে মাখা একটা কাঁচা মাঠ, পাশে নালার ধারে একটা পুরনো ব্যাগের ভেতর থেকে বেরোয় একজোড়া…
-
-
হেমন্ত বৰা ১ সুযোগ কেতিয়াবা নিশব্দে আহে, দীপ্তিৰ জীৱনত সেইদিনা তেনে এটা মুহূৰ্ত এৰাই গৈছিল। গুৱাহাটী বিশ্ববিদ্যালয়ৰ কলা শাখাৰ তৃতীয় বৰ্ষৰ ছাত্ৰী, দীপ্তি, বৰষুণত ভিজি কলাভৱনৰ সন্মুখত থিয় আছিল। পানী বৰষুণৰ দৰে নহয়—যেন কিছুমান ভাবনা ওলাই আহিছিল তেওঁৰ চকুতে। প্ৰত্যেক টোপাল যেন এটা প্রশ্ন, এটা অতীত, এটা অচিন জগতে নিয়া পথ। তেওঁৰ গা ধৰা নেমিক্স চাদৰখনে সাৰি উঠি গৈছিল কঁকাললৈ। তেওঁৰ কাণত লাগি আছিল টিনৰ ছাঁতিত বৰষুণৰ ধ্বনি—টুপ টুপ টুপ। কলেজৰ আন ছাত্ৰ-ছাত্ৰী বেয়া বতৰত দৌৰি গৈছিল, আপোনা-আপোনাৰ আশ্ৰয় বিচাৰি। দীপ্তি, সেই আশ্ৰয় বিচৰা মানুহৰ ভিতৰত নাছিল। তেওঁৰ থিয় দিয়া ইচ্ছাটি যেন ওলালেই আহে, “হয়তো কাকো কোনোদিন বিদায় দিয়া হোৱা…
-
Rhea Dutt Part 1: The First Serve The first time Aarav saw Mira, she was smashing a shuttlecock across the net with such precision that it left her opponent frozen. It wasn’t love at first sight—not yet. It was something sharper. Intrigue. Aarav, the newly recruited assistant coach at St. Augustine Sports Academy, had arrived straight from the national training camp, carrying with him the calm confidence of someone who had nothing left to prove on the court. Mira, on the other hand, was fiery, competitive, and unapologetically ambitious. She didn’t notice him at first. Her focus was the tournament…
-
রুমা মণ্ডল বাহাদুরপুর গ্রামের শেষ মাথায় যে পুরনো অশ্বত্থ গাছটা দাঁড়িয়ে আছে, তার নিচে প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে একজন মেয়ে চুপচাপ বসে থাকে। নাম কেউ জানে না ঠিক, তবে গ্রামের লোকজন তাকে ‘পরী’ বলেই ডাকে। মেয়েটার চেহারায় এমন একরকম মায়া আছে, যেন অনেকগুলো বেদনার রঙে আঁকা হয়েছে তার মুখ, চোখ দুটো এত গভীর যে তাকালেই মনে হয় কিছু একটা হারিয়ে গেছে অনেক দূরে, যা আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। গ্রামের ছেলেপুলেরা প্রথমদিকে ভয় পেত ওকে, এমন অচেনা এক মেয়ে, কাঁধে একটা পুরনো ঝোলানো ব্যাগ, কখনো হাসে না, কারও সঙ্গে কথা বলে না, শুধু বসে থাকে। ধীরে ধীরে সবাই ওকে গ্রহণ…
-
নির্মলেন্দু বিশ্বাস শীতকালের শুরুটা কলকাতায় যতটা না কাঁপুনির, তার চেয়েও বেশি স্মৃতির। সকালবেলায় ঠান্ডা আলো, শাড়ি গায়ে জড়িয়ে বারান্দায় দাঁড়ানো মায়েরা, আর গরম চায়ের কাপ হাতে ভাঙা কাঁচের জানালা দিয়ে সূর্যের কুয়াশা-বাঁধা হাসি ঢুকে পড়ে ঘরে। এই শহরের অভিজাত বসতিপাড়ায় একটি তিনতলা বাড়ির প্রথম তলায় বসু পরিবার শীতের আগমনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বসুদের ছেলে, আর্য, বয়স চৌদ্দ—তাকে কেউ দেখলে বলবে বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা কোনো শান্ত স্বভাবের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র। তার গায়ে তখন স্কুল ইউনিফর্মের গন্ধ, মাথার চুলে ঠিকঠাক জেল, হাতে একটি কমিক্স আর টেবিলের কোণে পড়ে থাকা আধখাওয়া স্যান্ডউইচ। মা রিমা বসু, সমাজসেবায় যুক্ত, কিন্তু সামাজিক অবস্থান বজায়…
-
অমর্ত্য ভট্টাচার্য রথের দিন, রক্তের রেখা পুরীর বাতাসে আজও শঙ্খ আর কাঁসরের ধ্বনি মিশে আছে, যেমন মিশে থাকে বালি আর ঘাম। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শহরের প্রতিটি অলিগলি ঠাসা মানুষে—ভক্ত, পর্যটক, পুলিশ, পুরোহিত, বিদেশি সাংবাদিক, দালাল, দলাল—সবাই যেন এক অদৃশ্য শক্তির টানে গড়িয়ে যাচ্ছে গ্র্যান্ড রোডের দিকে। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার তিনটি বিশাল রথ অলরেডি দাঁড়িয়ে আছে, কাঠের চাকায় লাল-হলুদ-সবুজের প্যাঁচানো চাদরে ঢাকা। হাজারো লোক টানবে সেই রথ, আর ঠিক সেই উৎসবের মধ্যেই—মন্দির চত্বরের দক্ষিণ কোণায়, একটি কাঠের কুঠুরির সামনে, আবিষ্কৃত হল এক নিথর দেহ। মৃত, চোখ দুটো ফ্যাঁকাসে খোলা, এক হাত তুলে থাকা যেন কাউকে শেষ মুহূর্তে কিছু দেখাতে…
-
অধ্যায় ১: ফিরে আসা ট্রেনটা যখন শিয়ালদা স্টেশনে ঢুকল, তখন ঘড়িতে সকাল আটটা কুড়ি। জানলার বাইরে শহরটা যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে—ছোট ছোট চায়ের দোকান, ব্যস্ত হকার, হর্ন বাজানো ট্যাক্সির ভিড় আর মানুষের ছুটে চলা। অনুরাধা জানলার পাশে বসে ছিল নিঃশব্দে, কাঁধে একটি বাদামী চামড়ার ব্যাগ, চোখে পুরনো শহরটার টুকরো টুকরো ছবি। ট্রেনের গতি কমতে কমতে থেমে গেল, আর ঠিক তখনই যেন সময় থমকে দাঁড়াল তার কাছে। বিয়ের পঁচিশ বছর পর সে এই শহরে ফিরে এসেছে—যে শহর একদিন ছিল তার নিজের, আর এখন যেন একটু দূরের, অচেনা। মাথার মধ্যে কুয়াশার মতো ভেসে উঠছে সেই সব সকাল, যখন সে কলেজ শেষে মঞ্চে…
-
অর্ঘ্য মজুমদার পর্ব ১: চায়ের দোকানটা অদ্ভুত ছিল শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডের ঠিক এক কোণায় একটা ছোট্ট চায়ের দোকান আছে, নাম—”ডার্ক চা”। দোকানটা যতটা ছোট, ততটাই অদ্ভুত। এখানে চা বানানো হয় একটা পুরনো কেতলিতে, যার মুখে লাল রঙের একটা পাথর বসানো। দোকানের মালিক একটা তরুণী—নির্মা, বছর সাতাশের মতন বয়স। লম্বা কালো চুল, সিঁথিতে লাল সুতো, চোখে অদ্ভুত ঠান্ডা দৃষ্টি। তার চা খেলে কেউ না কেউ কিছু একটা ভুলে যায়—পুরনো প্রেমিকের নাম, নিজের মোবাইলের পাসওয়ার্ড, বা একটা দুঃস্বপ্ন। শহরের কিছু মানুষ হাসতে হাসতে বলেন, “ও চা না, ডাকিনির পান!” কিন্তু কেউই অদ্ভুতভাবে দূরে থাকে না। বরং সন্ধে হতেই দোকানটা জমে ওঠে—কলেজ পড়ুয়া…
-
Ishita Desai Chapter 1: The Lighthouse Girl The sea was never still in Nila’s world. It breathed and broke and whispered, even in its quietest hours, and from the narrow balcony of the lighthouse, she watched it endlessly. The whitewashed tower stood like a forgotten guardian on the edge of the cliff, half-smothered in wild vines and coconut palms. The village below barely noticed its light anymore; satellite dishes had replaced the stars, and the lighthouse had become a relic, much like her. Nila turned sixteen that morning. There were no friends to wish her, no school group singing out…
-
Part 1: The Dead Number Rehan Mehta’s phone buzzed once. Then again. Then it stopped. Half-asleep, he groaned and turned over in bed, pulling the blanket over his head. The digital clock on his desk blinked 2:13 AM in a harsh red glow. Whoever it was could wait. But then he saw the notification: 1 new voicemail from Unknown Number. He sat up. Unknown numbers weren’t unusual in his line of work — Rehan was an investigative journalist for The Daily Ledger. But voicemails at 2 AM? That was new. He plugged in his headphones and hit play. Static. Then…