তৃষ্ণা মুখার্জী অরুনাভ ঘোষ অফিসে প্রবেশ করল সকাল সাড়ে ন’টার কিছু আগে, হাতে কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে। দক্ষিণের জানালাগুলো দিয়ে সকালের সূর্য ঠিক তখনই ঢুকছিল, আর তার চোখে সানগ্লাস চাপিয়ে সে যেন আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল সেই আলোয়। পুরো ফ্লোর জুড়ে একটা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল—“অরু এসেছে।” কেউ হয়তো তার ঠাট্টায় সঙ্গী হবে, কেউ হেসে উল্টো পথে হাঁটবে, কেউ আবার অপেক্ষা করত দিনের প্রথম উৎসাহের উৎসটা কখন তাকিয়ে বলবে, “তোর শার্টটা তো আজ খুবই কালারফুল, কী ব্যাপার?” অফিসের রিসেপশন থেকে ক্যান্টিন, সেলস টিম থেকে ফিনান্স—সবাই কোনো না কোনোভাবে চিনত অরুনাভকে, কেউ ‘আলো’র মতো, কেউ ‘আলোচ্য’। তবে একটা ডেস্কে সবসময়…
-
-
দিব্যজ্যোতি নন্দী এক বর্ধমান শহরের শেষপ্রান্তে যে পুরনো রেলগেটটা পড়ে আছে, তার ঠিক পরেই একটা আঁকাবাঁকা রাস্তা সোজা চলে গেছে চৌরাস্তার দিকে। দিনের বেলায় জায়গাটা নেহাতই সাধারণ—দুটো চায়ের দোকান, একটা পানের খুচরো স্টল, আর রাস্তার ধারে পুরনো বিদ্যুতের খুঁটি। কিন্তু রাত নামলেই জায়গাটার চেহারা পাল্টে যায়। এই শহরের বাসিন্দারা জানে, চৌরাস্তার সেই ধূসর শ্মশানঘরটার পাশ দিয়ে কেউ বারোটার পরে হেঁটে যায় না। নতুন থানায় বদলি হয়ে আসা ঋষভ চট্টোপাধ্যায় এসব কাহিনি প্রথম শুনেছিল থানার কনস্টেবল অসীমের মুখে। “স্যার, ওদিকে একবার গেলে পেছনে তাকাবেন না। লোকজন বলে, পেছনে তাকালে নিজের ছায়াও হারিয়ে যায়।” ঋষভ এসব কথা শুনে হেসেছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা…
-
সুব্রতা বৰুৱা ১ নগেনজান—অসমৰ এখন পাহাৰীয়া অঞ্চলত থকা সৰু পৰ্বতীয়া গাঁও, যিখন মানচিত্রত বিচাৰিলেও ওলাব নোৱাৰে। ইটোৰে এটি সেউজীয়া গাঁও, চিৰসেউজ বনত আৱৃত, কাঁইটাবিহীন পথ আৰু প্ৰাচীন জনবিশ্বাসৰে জৰজৰিত। গাঁওখনৰ পূব-দিশে, গছপুলি আৰু ধূপে ঢকা এখন বিস্মৃত বনাঞ্চলৰ মাজতে সেউজ পানীৰে চকচক কৰা এটি পুখুৰী—যাৰ নাম দেৱধৰ পুখুৰী। পুখুৰীখন চৌপাশে বাঁহ আৰু অজান গছৰ গুছ, সূৰ্যৰ ৰশ্মিও সঠিককৈ সোমাই নাপায়। গাঁৱৰ মানুহে কয়, ইয়াৰ ওপৰত সূৰ্যৰ পোহৰ একেবাৰে কম পৰে—আৰু সেই দিশেই ই অলৌকিক। কিছুমান গাঁওবুঢ়াই এই পুখুৰীখনক “মন্ত্ৰপাঠৰ স্থান”, আনহাতে কিছুমানে কয়—”য’ত দৰ্শন হয় নিজৰ ভাগ্যৰ”। এই কিংবদন্তীৰ মাজতে, ড° হেমেন বৰা নামৰ এজন লোক নগেনজান গাঁৱত উপস্থিত হয়,…
-
সৌম্যজ্যোতি ভট্টাচার্য ভোর চারটের দিকে কলকাতার আকাশে বৃষ্টির গন্ধ মিলিয়ে ছিল ধোঁয়ার মত আবছা আলো। কৌশিক মৈত্র জানালার ধারে বসে ছিল চুপ করে, ছয়তলার ফ্ল্যাটের নিচে তখনও শহর জেগে ওঠেনি। তার গলায় ঝুলে থাকা কাঁপতে থাকা একচিলতে নিঃশ্বাস, বিছানার ধারে পড়ে থাকা খোলা ঘুমের ওষুধের শিশি, ও পাশের টেবিলে ছেঁড়া কাগজে কুংথিত দুটো শব্দ— “মাফ করো”। গত রাতটা সে ঠিক কীভাবে পার করল, মনে পড়ে না। অথবা, মনে পড়াতে চায় না। এ জীবনের সব ছায়া, সব আগুন, সব ব্যর্থতা ঘিরে রেখেছিল তাকে এক অদ্ভুত অস্পষ্ট ধোঁয়াশায়, যেন কিছুই আর বাস্তব নয়—সবই বাষ্প। সেই বাষ্পেই ঘোর লাগা চোখে হঠাৎ পড়ে যায়…
-
Nikita Kaul 1 The first time Tanvi Mehra heard about the chalk outline was during her third day at St. Augustine’s Residential Academy for Girls. It was whispered between two girls in the library, their voices low but their eyes flickering with unmistakable fear. The words “outline,” “disappears,” and “Ragini” caught Tanvi’s attention like hooks in water. She leaned further behind the old geography shelf, heart thudding—not from belief, but curiosity. She had transferred here from Delhi after a messy school suspension and an even messier stepfather situation. Her mother called this place a “fresh start.” Tanvi called it a…
-
অর্ক ভট্ট ১ পদ্মার কোলঘেঁষে ছায়াঘেরা এক গ্রাম, যেখানে সকাল শুরু হয় কাকডাকা ভোরে আর শেষ হয় নদীর ঢেউয়ের নিঃশব্দ হাহাকারে। ঠিক সেই জায়গাটায় পৌঁছাল মেঘা সেন, শহরের এক ডকুমেন্টারি নির্মাতা, যাকে নিয়ে এসেছে তার নিজস্ব কৌতূহল—নদী, তার মানুষ আর তাদের জীবনগাথা। লাল মাটি, ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তা, কাদা-মাখা পায়ের ছাপ পেরিয়ে মেঘ দাঁড়ায় নদীর ঘাটে। কাঁধে ঝোলানো ক্যামেরা, পরনে হালকা তুলো কাপড়ের সালোয়ার, চোখে একরাশ আগ্রহ আর মুখে একরাশ ক্লান্তি। তার চোখ প্রথমেই আটকে যায় এক মাঝির ওপর, যার গায়ের রং ঠিক নদীর পলির মতো ধূসর, যার নৌকা যেন নদীর বুকে গড়িয়ে চলা এক অভ্যস্ত ছায়া। সে জলে দাঁড়িয়ে জাল…
-
নিলয় মিত্র অধ্যায় ১ সাহিত্যিক সৌম্য মিত্রের নিথর দেহটি পড়েছিল তার উত্তর কলকাতার দোতলা বাড়ির লেখার ঘরে, জানালার পর্দা অর্ধেক সরানো, বাইরের ঝিরঝিরে বৃষ্টির আলো গালচে করে রেখেছে কাঁচের ওপর। ছোট একটি কাঠের টেবিলে ছড়িয়ে থাকা কাগজগুলো ছিল সযত্নে বাঁধা একটি পাণ্ডুলিপি, নামহীন, কেবল প্রতিটি পাতার নিচে লাল কালি দিয়ে স্পষ্টভাবে লেখা — “এটা আমার লেখা নয়।” তার ডান হাতে শক্ত করে ধরা একটি পার্কার কলম, পাশে পড়ে থাকা আধখোলা পেন্সিল বক্স, আর ঘরের কোণে নিঃশব্দে জ্বলছিল একটি কুয়াশামাখা টেবিল ল্যাম্প। পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্ট বলেছে—আত্মহত্যা। ঘুমের বড়ি ও হুইস্কির সম্মিলিত প্রভাবে মৃত্যু হয়েছে সম্ভবত রাত আড়াইটার সময়। কিন্তু বাড়ির কাজের…
-
শ্রেয়সী বসাক অধ্যায় ১: লগইন লবিতে প্রথম দেখা RealM-EVE। একটা নাম, একটা দুনিয়া, একটা ছায়া বাস্তবতা। জয় ততক্ষণে দশ ঘণ্টার কোডিং শিফট শেষ করে, মাথার ব্যথাটা উপেক্ষা করে নিজের মডিফায়েড VR হেলমেটটা মাথায় চাপিয়ে নিয়েছে। ওর জীবনটা গত কয়েক বছরে রুটিনের মধ্যে আটকে পড়েছে—ডে জব ইন IT, নাইট জব ইন গেমিং। RealM-EVE তার কাছে শুধু একটা খেলা নয়, ওটা ছিল একধরনের নির্জনতা, যেখানে সে হারিয়ে যেতে পারে নিজের মতো করে। হেডসেটে কান ঢেকে যাওয়া মাত্রই, চোখের সামনে খুলে গেল রঙিন এক লবি—আধা-জীবন্ত, সাইবার ফ্যান্টাসি আর রেট্রো ফিউচারিজমে মেশানো পরিবেশ, যেখানে প্রথমবারেই জয় খেয়াল করল, একটা চরিত্র খুব চুপচাপ তাকিয়ে আছে…
-
रश्मि सावंत नोएडा के पॉश सेक्टर में बने ‘एलिट वैली’ टावर की दसवीं मंज़िल पर सुबह की धूप खिड़की के मोटे शीशों से छनकर अंदर आ रही थी। फ्लैट के अंदर हर चीज़ करीने से सजी—सफेद दीवारों पर न्यूनतम आर्टवर्क, अलमारी पर बच्चों की तस्वीरें, और एक कोने में एलेक्ज़ा पर बज रहा था—“गुड मॉर्निंग, प्रिय शर्मा।” प्रिय, हल्के पीले रंग की सूती साड़ी में, रसोई में चाय उबाल रही थी, पर उसकी नज़रें दरवाज़े के नीचे अटक गई थीं। किसी ने दरवाज़े के नीचे से एक लिफ़ाफा अंदर सरकाया था। वह पल भर के लिए थम गई। किसी ऑनलाइन…
-
१ रात का अंधेरा कुछ ज़्यादा ही घना था जब डॉक्टर रुचिका सावंत अपनी कार लेकर पुणे-मुंबई एक्सप्रेसवे पर निकल पड़ी। अस्पताल की ड्यूटी से छूटकर वो देर हो गई थी, और रात के ग्यारह बज चुके थे। उसके पास और कोई विकल्प नहीं था—अगले दिन एक जरूरी ऑपरेशन था, और वो चाहती थी कि रात में घर पहुँचकर थोड़ी देर माँ के हाथ का बना खाना खा ले और फिर आराम से नींद ले। उसका मन शांत नहीं था—वो खुद को थका हुआ महसूस कर रही थी, और ड्राइविंग में उसका ध्यान कम ही था। एक्सप्रेसवे के आसपास कोई…