দীপান্বিতা মাহাতো ১ পুরুলিয়ার বাঁশডাঙা গ্রামে ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়তেই পাখির ডাকে জেগে ওঠে পাহাড়-জঙ্গলের বুক চেরা গ্রামটা। মাটির বাড়ির চালের নিচে কুয়াশার কুয়াশা, আর তার মাঝখান দিয়ে হেঁটে চলে যায় একটা কিশোরী—ঝুমরি হাঁসদা। তার পরনে হালকা লাল পাড়ের ধবধবে সাদা শাড়ি, হাতে জলভরা কলসি, কিন্তু ঠোঁটে একটানা চলতে থাকা সুর—”গেলি চলে পাহাড়ি পথে, কাহার ডাকে রে মন।” সে একা, কিন্তু একলা নয়। ঝুমরির কণ্ঠে যেন গমগম করে ওঠে পুরো বাঁশডাঙার ঝরা পাতা, মাঠঘাট, আর সেই পাহাড়ের পেছনের রক্তিম সূর্য। ছোট থেকেই ঝুমরির গলার জোর ছিল গ্রামের অন্যসব মেয়েদের চেয়ে আলাদা। মা পূর্ণিমা হাঁসদা ছোটবেলায় নিজের ঠাকুমার কাছ থেকে যে…
-
-
Veena Mehta One The ancient ghat on the banks of the Narmada shimmered under the golden light of Kartik Purnima. Clay lamps floated silently on the water like drifting prayers, their flames barely flickering in the still air. Pilgrims descended the wide, weathered stone steps in silence or chant, some with folded palms, some with copper pots brimming with sacred water. The Deshmukh family, visiting from Pune, stood together at the edge of the ghat. Vinay adjusted his spectacles while Malini held tightly onto their youngest daughter Ahalya’s wrist. The girl, all of eight years old, was already tugging away—drawn…
-
विवेक शर्मा जयपुर की सर्दियों में जब गुलाबी हवाएं हवेली की पुरानी खिड़कियों से टकराती थीं, उस समय गोयल परिवार के आँगन में गहमागहमी थी। हल्के गुनगुने धूप में बैठे बुज़ुर्ग चाय पीते हुए किसी बड़े फैसले की चर्चा कर रहे थे, और रसोई से आती मसालों की खुशबू माहौल को और आत्मीय बना रही थी। अंशिका अपने कमरे की बालकनी में खड़ी सब देख रही थी, जैसे वह दृश्य का हिस्सा होते हुए भी अलग थी। उसकी माँ, विनीता गोयल, बार-बार नीचे से उसे बुला रही थीं लेकिन अंशिका की नजरें आसमान में उड़ते कबूतरों में उलझी थीं। पिछले…
-
সুবীর পাল কলেজ স্ট্রিটের পুরোনো এক পরিত্যক্ত সংগ্রহশালার দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই ধুলোর এক নিঃশব্দ ঝড় যেন আছড়ে পড়ল অরিত্র মুখার্জীর চোখে-মুখে। দিনের আলো সেখানে পৌঁছায় না, আর বিদ্যুৎ সংযোগও প্রায় নিস্ক্রিয়— কেবল মাঝেমধ্যে পুরোনো টিউবলাইটগুলো একটানা ঝিম মেরে জ্বলে ওঠে আবার নিভে যায়, যেন জীর্ণ শরীরের মাঝে অসহায় প্রাণের শেষ ছটফটানি। অরিত্রর বয়স বয়াল্লিশের কোঠায়, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা আর কপালের মাঝে গাঁথা একটা হালকা কাটা দাগ, যেটা অতীতের কোনো দুর্ঘটনার স্মারক। তিনি কলকাতা হেরিটেজ মিউজিয়ামের প্রধান কিউরেটর, তবে তার আসল পরিচয় একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ হিসেবে— যিনি ইতিহাসের গায়ে জমে থাকা ধুলো সরিয়ে মৃত কালচক্রের মুখোমুখি দাঁড়াতে ভয় পান না।…
-
রবীন ঘোষ অধ্যায় ১: রাত তখন একটার ঘর পেরিয়ে গেছে, আকাশের বুকজোড়া ছড়ানো পূর্ণিমার চাঁদ নীচের ভাগীরথীর গায়ে রূপোর মত আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। হরিপদ মাঝি সেই রাতে একা ফিরছিল জলপথে, তার কাঠের নৌকাটা খালি, গলার লুঙ্গিটা গুটিয়ে কোমরে বাঁধা, হাতে হ্যাজাক জ্বলছে ক্ষীণ আলো নিয়ে। সে যখন ‘ঘাটনিঘাট’ মোড় পেরোচ্ছে, হঠাৎ চোখে পড়ল—নদীর উপর ভেসে আছে কিছু একটা, যেন মানুষ, যেন একটা দেহ। প্রথমে সে ভাবল পাট বা খড়ের পুতুল হবে, কিন্তু হ্যাজাকের আলোটা বাড়িয়ে যখন নৌকা কাছে টানল, তার বুকের মধ্যিখানে যেন ঠাণ্ডা কাঁপুনি বয়ে গেল। শব! নদীর গায়ে ঠাস করে মুখ থুবড়ে ভেসে আছে একটি মৃতদেহ, আর সবচেয়ে…
-
প্ৰণয় ডেকা বৰপেটাৰ দক্ষিণ-পূৱৰ সীমান্তত থকা পাহাৰৰ কাষৰ এটি শান্ত গাঁও, ৰঘুনাথপাৰাত সিদিনাৰ সন্ধিয়া হঠাতে থমকি আহিছিল। মেঘে ঢকা গগন, কটকটীয়া বজ্ৰগৰ্জন আৰু ধুমুহাৰ দৰে বৰষুণৰ মাজত, পাহাৰখনৰ এখন বিশেষ অংশ হঠাতে খহি পৰে। থলুৱা লোকসকলে অচিন্তনীয় শব্দত আকৌ চকু-কাণ খুলি থকা পৰিসৰ দেখি বিমূঢ় হৈ পৰে। ভূমিস্খলনৰ ফলত মাটিৰ তলৰ পৰা কিছুমান জিনিস উন্মোচিত হয়—পাথৰেৰে গঢ়া প্ৰাচীন গঠন, যিটো ক’লা আৰু ৰঙা পাথৰেৰে নিৰ্মিত, যেন দহ হাজাৰ বছৰ আগৰ কোনোৱে ইয়াক মৰুভূমিৰ বুকুত ৰখি থৈ গৈছে। সেই মুহূৰ্ততে গাঁওখনত গুজব বিয়পি পৰে—“দেউল ওলাইছে!”, “অভিশপ্ত ঠাই উন্মোচিত হৈছে!”, “দেৱী ৰক্ত বিচাৰে!” স্থানীয় এগৰাকী বৃদ্ধ মহিলা, ধনমালী আই, কাণে কাণে কয়—“এইটো…
-
হিমাদ্রি মুখার্জী ১ দক্ষিণ কলকাতার ‘উজ্জ্বল আলয়’ হাউজিং কমপ্লেক্সের সকালটা ছিল একেবারে সাধারণ। দুধওয়ালা এসে গেটের বাইরে হাঁক দিলো, মুন্না ওয়াচম্যান ঝিমোতে ঝিমোতে ঘাড় তুলে চাবি দিলো, আর বাচ্চারা স্কুলবাস ধরতে দৌড়োতে লাগল। নবদম্পতি তুহিন আর বুবলি ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কফি খেতে খেতে নিজেদের ইউটিউব ভিডিওর থাম্বনেইল নিয়ে আলোচনা করছিল, ঠিক তখনই বুবলি ফিসফিস করে বলল, “তুমি লক্ষ করেছো, ৪০৩ ফ্ল্যাটের জানালাটা কাল রাত থেকে বন্ধই আছে। আজ সকালেও কেউ বেরোলো না!” তুহিন কপাল কুঁচকে বলল, “অ্যাই, ঠিক বলেছো তো! বিমলবাবু তো রোজ সকাল সাতটায় হাঁটতে বেরোন, আর অঙ্কুর গলা ফাটিয়ে গেম খেলে—আজ একটাও শব্দ নেই!” সন্দেহজনকভাবে তারা দুজনে দোতলায় উঠে…
-
Riya Bhattacharya 1 The sun hung low in the Kolkata sky, its light strangely muted as if nature itself was holding its breath. The city buzzed with excitement over the impending solar eclipse, the rare astronomical event that had drawn both superstition and science into equal frenzy. But sixteen-year-old Isha Sen couldn’t care less. Trapped in her family’s ancestral home in North Kolkata, a crumbling mansion older than the city’s electric lines, she fidgeted through incense smoke and the endless drone of priests chanting shlokas. Her mother had insisted they be there for “tradition,” and her grandmother, Dida, had only…
-
শ্রেয়া বসু এক বইমেলার বিকেলগুলো যেন সবসময় একটু বেশি রঙিন হয়। মাঠের একপাশে রোদের ঝিলিক আর মানুষের ভিড় মিলেমিশে এক অদ্ভুত উষ্ণ আবহ তৈরি করে। সেই বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কলকাতা বইমেলা তখন সেন্ট্রাল পার্কে, আর সেদিন ছিল জানুয়ারির শেষ শুক্রবার। ঋতা সেদিন প্রথমবারের মতো একা এসেছিল বইমেলায়। নিজের জগতে ডুবে থাকা এই তরুণী কোনও বন্ধুকে জানায়নি আসার কথা, অফিস থেকে ছুটি নিয়েছিল চুপচাপ, আর একটা নীলখামে পুরে নিজের পুরোনো ‘পছন্দের বইয়ের তালিকা’ নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল। স্টলগুলোতে ঘুরে ঘুরে দেখে, তালিকা মিলিয়ে বই কেনে। এমন সময়ে, ঠিক D-14 নাম্বার স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে একটা বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে তার চোখে পড়ে…
-
সম্বিত দাশগুপ্ত অধ্যায় ১: সংকেত চাঁদের প্রান্তরের সেই গভীর নিশুতি ভেদ করে যখন ‘অরোরা-১’ গবেষণা কেন্দ্রের অ্যান্টেনা প্রথমবারের মতো এক অদ্ভুত কম্পনধর্মী সংকেত ধরা পড়ল, তখন কেউই তা গুরুত্ব দিতে চায়নি। মহাকাশে এমন ইন্টারফেরেন্স হরহামেশাই দেখা যায় — সৌরঝড়, উপগ্রহের প্রতিধ্বনি, কিংবা অজানা মহাজাগতিক কণার ছোটাছুটি। কিন্তু ড. অনিরুদ্ধ সেনের অভিজ্ঞ চোখ বুঝে ফেলল, এতে আছে কিছু ভিন্নতা। সংকেতটি ছিল ছন্দোময়, নির্দিষ্ট বিরতিতে ফিরে আসছিল। সময়মতো পুনরাবৃত্তি, নির্দিষ্ট উচ্চতা ও কম্পাঙ্কে শব্দের মতো কিছু… যা প্রাকৃতিক নয়, বরং কৃত্রিম। তারপরে আরও অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল — সেই সংকেতের তরঙ্গবিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিস্তা রায় বললেন, “এটা যেন কারও নিঃশব্দ আর্তি… যেন কেউ…