দেবিকা দাশগুপ্ত গ্রাম বাংলার এক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর পবিত্রতা মিশে রয়েছে। রিয়া, গ্রাম্য সংস্কৃতির মাঝেই বেড়ে ওঠা এক তরুণী, যার চোখে মিশে আছে নির্ভরতা ও বেঁচে থাকার লড়াই। সে সমাজের প্রথা, নিয়ম-কানুন ও প্রত্যাশার সীমানার মধ্যে বন্দী। প্রতিদিন সকালে মাঠে হাঁটতে যাওয়া থেকে শুরু করে পরিবারের কাজ সেরে নেয়া, সবটাই যেন তার জীবনের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তার মন সে নিয়মের বাইরে, সে জানে নিজের ভেতরে আরও গভীর কিছু আছে, যেটা সে নিজে বুঝতে পারেনি। রিয়ার পরিবার তার ভবিষ্যত গড়ার জন্য এক সম্ভ্রান্ত যুবকের সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছে। কিন্তু রিয়ার মন তার চাওয়া স্বপ্নের পথে হাঁটতে…
-
-
সুমন দাস ১ পুরোনো জমিদার বাড়ি, যে দীর্ঘদিন ধরে খালি এবং নীরব হয়ে আছে, তার দেয়ালগুলোতে ধুলোর একটি গাঢ় স্তর জমে গেছে। সূর্যপ্রদত্ত বিকেলবেলার আলো বাড়ির শীর্ণ জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে, ধূসর বালির মিশ্রণে জমে থাকা সময়ের চিহ্নগুলোকে হালকা করে তুলছিল। চারপাশে ভাঙা ফার্নিচার, ছেঁড়া পর্দা আর সময়ের সাথে ছেঁড়া দেয়ালভাঙা পুঁতে রাখা পুরোনো নকশাগুলো যেন এই বাড়ির অতীতের গল্পগুলো চুপচাপ বলে চলেছে। সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে নতুন শ্রমিকদের সাথে, যারা কাজের হাতকড়ি আর সরঞ্জামের সঙ্গে নতুন জীবনের ছোঁয়া দিতে এখানে এসেছে। কিন্তু ঘরে ঢুকেই তাদের চোখে পড়ে দেয়ালের ভেতরের অস্বাভাবিক ফাঁপা শব্দ, যা একরকম রহস্যময় আতঙ্ক তৈরি করছে।…
-
সুমন্ত বসাক অধ্যায় ১: নতুন চাকরি অনির্বাণের বয়স মাত্র চব্বিশ। স্নাতক পাশ করার পর থেকেই কাজের খোঁজে এখানে-ওখানে ছুটছে, কিন্তু ভাগ্য যেন তাকে বারবার ঠকাচ্ছে। শহরে একসময় অনেক চেষ্টা করেছিল, কল সেন্টারের চাকরি থেকে শুরু করে প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষকতার জন্য সাক্ষাৎকার দিয়েছে, কিন্তু কোথাও ঠিকমতো জায়গা হয়নি। গ্রামে ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতে। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়েছে, আর মায়ের অসুখে ওষুধের খরচ মেটানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় গ্রামের মুন্সি হঠাৎ একদিন খবর দিল—পঞ্চায়েতের তরফ থেকে প্রহরীর একটা পদ খালি আছে। তবে জায়গাটা হলো গ্রামসংলগ্ন পুরনো শ্মশান। শুনে অনির্বাণের শরীর শিউরে উঠেছিল। শ্মশান পাহারা দেওয়া…
-
অর্পণ মিত্র অধ্যায় ১: আলোর পথে যাত্রা কলকাতা রেলস্টেশনের বিশাল প্ল্যাটফর্মে ভিড়ের মধ্যেও ঋতব্রত ও অনিন্দিতার উপস্থিতি যেন আলাদা করে চোখে পড়ে। সকাল ধীরে ধীরে শহরের কোলাহলকে ঘিরে উঠে, আর ট্রেনের ঘন কোলাহল মাঝের গরম বাতাসে মিশে একটি অদ্ভুত উত্তেজনা তৈরি করে। তাদের হাতে থাকা টিকিট, ব্যাগের ভেতরের সরু নথি, ক্যামেরার ঝোল, সবই যেন একটি নতুন অভিযানের প্রস্তুতি। ট্রেন ধীরে ধীরে স্লো স্ট্রোকের মতো ধুলো উড়িয়ে নেমে যায় প্ল্যাটফর্ম থেকে, আর জানলা দিয়ে ঢুকে আসে কলকাতার পুরোনো ভবন, ব্যস্ত রাস্তাঘাট, হঠাৎ কিছু সাইকেল আর অটো চালকের রুক্ষ অভিব্যক্তি। ঋতব্রত জানলার কাচে মাথা ঠেসে বসে বিক্ষিপ্ত দৃশ্যগুলোকে মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে…
-
অহনা বসু অধ্যায় ১ : স্বপ্নের ছায়া প্রথমবারের মতো সেই স্বপ্নটা নন্দিতাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, কিন্তু পরের দিনগুলোতে এটি যেন তার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়াল। কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নন্দিতা সারাদিনের ক্লাস, লাইব্রেরির নীরবতা, আর সন্ধ্যার ভিড়ভাট্টার মাঝেও নিজের মনকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করত, কিন্তু রাত নামলেই যেন অদৃশ্য এক পর্দা সরতে শুরু করত। ঘুমের কোলে ঢলে পড়ার মুহূর্তেই সে যেন প্রবেশ করত এক অচেনা জগতে—একটা অদ্ভুত, কুয়াশায় মোড়া রাস্তা, যেখানে বাতাসে অচেনা গন্ধ আর অদৃশ্য শব্দের প্রতিধ্বনি। রাস্তার দুই পাশে ছায়ার মতো কিছু গাছ দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের পাতাগুলো কাঁপলেও শব্দ হয় না। সেই নিস্তব্ধতার মধ্যে দাঁড়িয়ে…
-
অমিত সিনহা ১ হিমালয়ের নক্ষত্র মানমন্দিরে রাতটা ছিল এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতার। বাইরে বরফঢাকা পর্বতের মাথায় ছড়িয়ে থাকা ঠান্ডা হাওয়া যেন পৃথিবীর অন্তিম যুগের শীতলতার পূর্বাভাস দিচ্ছিল। শতাব্দীর শেষ প্রহরগুলোতে পৃথিবীর মানুষ আর প্রকৃতি, দুজনেই এক অচেনা ছন্দে বেঁচে ছিল। সূর্যের শক্তি ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত, গ্লোবাল তাপমাত্রা কখনও অস্বাভাবিক উষ্ণতায় ফেটে পড়ছে, আবার মুহূর্তেই হিমেল শীতের ছুরিকাঘাত নামছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আকাশের উচ্চতায়। শহরগুলো ধীরে ধীরে নিভে গেছে, সভ্যতার আলো কমেছে মানুষের হাতের ছোঁয়ায় নয়, বরং মহাবিশ্বের এক অচেনা চক্রে। এই মৃত্যুপথযাত্রী পৃথিবীতে আর্যন সেন যেন এক ব্যতিক্রম। তরুণ, মেধাবী জ্যোতির্বিজ্ঞানী সে, যার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য আকাশের ভাষা বোঝা। অজানাকে ছুঁতে চাওয়ার নেশায়…
-
অদ্বৈত বসু পর্ব ১: নীল পুকুরের কিংবদন্তি গ্রামের নাম কদমডাঙা। বর্ধমান জেলার ভেতরে, ঘন বন আর ধানক্ষেতের মাঝখানে লুকিয়ে থাকা এই গ্রামটিকে খুব বেশি কেউ চিনত না। লোকেরা সাধারণত এখানে আসে না, আসলেও সন্ধে নামলেই তাড়াতাড়ি ফিরতে চায়। কারণ, গ্রামটিকে ঘিরে রয়েছে এক ভয়াল কাহিনি—গ্রামের মাঝখানে যে পুকুরটা, তাকে সবাই বলে “নীল পুকুর।” পুকুরের জল দিনে সাধারণ, কাদামাটির মতো ঘোলা আর অচেনা গন্ধে ভরা। কিন্তু রাত নামলেই, বিশেষ করে পূর্ণিমার আলোয়, পুকুরের জল হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক নীল। লোককথায় আছে, সেই নীল আলো আসলে কোনো চাঁদের প্রতিফলন নয়, বরং পুকুরের তলায় ঘুমিয়ে থাকা এক নিষিদ্ধ তন্ত্রশক্তির জ্যোতি। অদিত্য বহু বছর পর…
-
Rhea Malhotra Part 1 – The Announcement The morning bell at Raipur High had always been shrill enough to cut through sleep, chatter, even monsoon thunder. But that day it sounded different—longer, harsher, like the metal clanged with purpose. Students rushed into the assembly hall, uniforms sticking with the last drizzle of rain, shoes leaving muddy half-moons on the stone floor. The ceiling fans swung lazily above us, too slow to dry the nervous sweat running down our backs. Something was off. Even the teachers stood stiff in their lines, whispering among themselves. I stood in the second row, shoving…
-
ঋতব্রত মুখার্জি পর্ব ১ : প্রথম দেখা সেদিন আকাশটা অদ্ভুত রঙে ভরে উঠেছিল। সারাদিনের গুমোটের পরে বিকেলের শেষে নামল হঠাৎ বৃষ্টি। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সবাই দৌড়চ্ছে—কেউ অটো ধরছে, কেউ বাসের জন্য ছুটছে, কেউ ছাতা ভিজিয়ে হাঁটছে। আমি তখন কলেজ থেকে ফিরছিলাম, হাতে কয়েকটা ফাইল আর এক কাপ কাগজের কফি। মনে হচ্ছিল—এই ভিজে ভিজে শহরে কেবল একটাই শব্দ চলছে, বৃষ্টির টুপটাপ। বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতেই চোখে পড়লো তাকে। নীল সালোয়ার পরে, কাঁধে ভেজা চুল ঝুলছে, একহাতে কালো ছাতা, তবু বৃষ্টির ফোঁটা তাকে যেন রেহাই দিচ্ছিল না। যেন ছাতার আড়াল থেকেও বৃষ্টি তাকে ছুঁয়ে ফেলছিল বারবার। তার চোখদুটো ছিল একেবারে সামনে, কিন্তু মনে…
-
Tanika Sen Part 1: Arrival The rickshaw slowed as it turned into the narrow lanes of Bowbazar, its wheels rattling over uneven stones slick with last night’s rain. Mira clutched her dupatta tighter, staring out at the crumbling facades of colonial houses that seemed to lean against one another like tired old men. Once, this part of Kolkata had been vibrant, filled with traders, courtesans, and music spilling out of courtyards; now it felt like a relic of another century, with rusted gates and moss-streaked walls whispering of time’s decay. Arjun, sitting beside her, tapped the rickshaw wall lightly, his…