রহস্য গল্প

  • নকশাল বাড়ির নোটবুক

    নকশাল বাড়ির নোটবুক

    কৌশিক দে ১ সকাল নয়টা বাজতেই টয় ট্রেন-এর চেনা বাঁশির শব্দে কেঁপে উঠেছিল দার্জিলিং শহর, কিন্তু সেই শব্দও যেন পৌঁছাতে পারেনি কুয়াশার মোটা চাদর ভেদ করে। পাহাড় বেয়ে উপরের দিকে ওঠা রাস্তার দু’পাশে পাইন গাছের সারি যেন দিনের আলোকে আড়াল করে রেখেছিল। শীতে জমে যাওয়া আঙুলগুলো পকেটেই রাখা থাকলেও, ঈশান চট্টোপাধ্যায়ের মন ছিল উত্তেজনায় গরম।…

    read more

  • ছায়ার নীচে গ্রীষ্ম

    ছায়ার নীচে গ্রীষ্ম

    হেমন্ত সরকার পর্ব ১ রিয়ান জানালার পাশে বসে ট্রেনের ধুকধুক শব্দ শুনছিল। গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হয়েছে মাত্র দু’দিন, আর তাতেই বাবা-মায়ের পরিকল্পনা—তাকে আর তার কাজিন উজ্জ্বলকে গ্রামের বাড়ি পাঠানো হবে ঠাকুরদার কাছে। সে যেন এক আলাদা জগৎ—চাঁপারপুকুর। শহুরে শব্দহীনতা আর মোবাইলের ‘নেট নেই’ বোঝা এই গ্রামেরই অন্য নাম হতে পারে। “এই গ্রামে কি সত্যিই রাতে…

    read more

  • অভিশপ্ত স্রোতের ডাকে

    অভিশপ্ত স্রোতের ডাকে

    অভিষেক মজুমদার অধ্যায় ১: সুন্দরবনের প্রান্তসীমায় ছোট্ট গ্রাম কুয়াখালির ভোরবেলা আর পাঁচটা দিনের মতো নয়। সেই সকালটায় বাতাসে যেন অদ্ভুত গন্ধ, নদীর জলে অশান্ত ঢেউ, আর আকাশে পাখিদের ডাকেও এক অজানা আশঙ্কার সুর মিশে ছিল। অদ্বৈত ঘাটের ধারে দাঁড়িয়ে দূরের জঙ্গলের দিকটা দেখছিল, চোখে ছিল স্বপ্ন আর মনে দুরু দুরু কাঁপন। সোনার নদীর গল্প শোনা…

    read more

  • টেরাকোটার চোখ

    টেরাকোটার চোখ

    অর্ঘ্য সেন ১ বিষ্ণুপুর স্টেশনে যখন ট্রেন থামল, তখন ভোর সাড়ে পাঁচটা। হালকা কুয়াশা, কাঁপা কাঁপা আলো, আর ছায়ার মতো লোকজন। অরণ্য সান্যাল ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে প্ল্যাটফর্মে নামল। তার চোখে ঘুম নেই, মাথায় ঘুরছে কেবল একটি পুরনো নথির লাইন—“মল্ল রাজাদের শেষ টেরাকোটা মন্দির, যার প্রবেশদ্বারেই আছে ‘চোখ’—যা দেখে, কিন্তু কাউকে কিছু বলে না।” কলেজ স্ট্রিটের…

    read more

  • পোড়োবাড়ির প্রেতছায়া

    পোড়োবাড়ির প্রেতছায়া

    অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী কলকাতার গরম রোদের মধ্যে দিয়ে হোঁচট খেতে খেতে এক সাদা রঙের সেকেন্ড হ্যান্ড জিপ গ্রামের দিকে এগিয়ে চলেছে। ড্রাইভিং সিটে বসে দীপ, চশমার কাচে ঘাম জমে গেছে, কপালে টপটপ করে ঘামের ফোঁটা পড়ছে। পাশে বসে অমিত, রোদ থেকে বাঁচতে মাথায় কাপড়ের ফেট্টি বেঁধেছে। ওদের দুজনের মুখেই রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার ছাপ। “আর কত দূর,…

    read more

  • মরফৎবাবুর ডায়েরি

    মরফৎবাবুর ডায়েরি

    ত্রিসা ভট্টাচার্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিট—চিরচেনা, চিরসজীব, আলো-আঁধারির এক নিটোল সহবাস। দিনের শেষে যখন রাজপথের হট্টগোল স্তিমিত হয়ে আসে, আর দোকানপাটগুলো একে একে ঝাঁপ ফেলে দেয়, ঠিক তখনই এই রাস্তার পেট থেকে জেগে ওঠে অন্য এক কলকাতা—যার অলিগলিতে ঘুরে বেড়ায় ছায়া, স্মৃতি, আর কিছু হারিয়ে যাওয়া নাম। এই শহরের এক কোণে, এক ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা…

    read more

  • গুপ্তধনের ছায়ায়

    গুপ্তধনের ছায়ায়

    অর্ণব গুহ পর্ব ১: পুরনো পাতার গন্ধে বৃষ্টির পর বিকেলের আলোটা যেন গড়বেতার আকাশে রূপকথার পর্দা টেনে দিয়েছে। মাটি থেকে ধোঁয়ার মতো জলীয়বাষ্প উঠছে, যেন মাটিও নিঃশ্বাস নিচ্ছে। রিমি জানালার পাশে বসে ছুঁয়ে দেখছিল তার ঠাকুরদার পুরনো নোটবুকটা। হলুদ হয়ে যাওয়া পাতাগুলোর গায়ে ঘামের মতো ছাপ, পুরনো কালি ঝাপসা, কিন্তু কিছু লেখা এখনও পরিষ্কার— “যদি…

    read more

  • মেঘপারের মৃত্যু

    মেঘপারের মৃত্যু

    রুদ্রপ্রতিম সেন ১ কলকাতা বিমানবন্দর, সকাল ছ’টা দশ। মেঘলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে একটি কালো সেডান গাড়ি ধীরে ধীরে থামে টার্মিনালের সামনে। চালক দরজা খুলে দেয়, এবং একটি উঁচু কাঁধ, রূপালি চুল আর ধীর পদক্ষেপে নামেন এক মধ্যবয়স্ক মানুষ—সমরেশ মিত্র, দেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পপতি। তাঁর গায়ে হালকা ধূসর স্যুট, চোখে এক জোড়া ধাতবচশমা। এক হাতে ছোট…

    read more

  • রক্তরেখা

    রক্তরেখা

    অনির্বাণ সেনগুপ্ত ১ রাত দশটা পঁচিশ। হাওড়া স্টেশনের শেষ লোকাল ট্রেনটা বাঁশদ্রোণীর দিকে ছেড়ে গেল। প্ল্যাটফর্ম ফাঁকা হতে হতে হঠাৎ দেখা গেল এক মাঝবয়সী লোক দৌড়ে এসে থামল, যেন কিছু ফেলেছে বা কাউকে খুঁজছে। হাতে একটা লাল খাম। চোখে আতঙ্ক, মুখে ঘাম, পাঞ্জাবির পকেট থেকে কিছু যেন ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছে—একটা ছোট্ট ফটো, দুটো গুচ্ছ চাবি…

    read more

  • রক্তে লেখা রত্নচিহ্ন

    রক্তে লেখা রত্নচিহ্ন

    পারমিতা রায় ছাদের উপর সেই পাথরের বাক্স কলকাতার উত্তর শহরতলিতে, শ্যামবাজার থেকে একটু ভেতরে ঢুকলেই যে গলিটার মোড়ে বিশাল এক পামগাছ মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তার ঠিক পাশেই অবস্থিত “দত্ত ভিলা”। দু’শো বছরের পুরনো এক জমিদারবাড়ি, আজ যার অর্ধেকটা পরিণত হয়েছে কুয়াশা ও কালের ক্ষয়ে ধূসর এক ভগ্নদশা স্তূপে। মেঝেতে ফাটল, দেওয়ালে শ্যাওলা, আর কাঠের…

    read more

  • বাতাসিয়াপুর হত্যাকাণ্ড

    বাতাসিয়াপুর হত্যাকাণ্ড

    জয় ভট্টাচার্য চুপচাপ বাতাস কালিম্পঙের এক কোণে, কুয়াশা মোড়া ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম বাতাসিয়াপুর। চারদিকে পাহাড়, গাছগাছালি আর নিঃস্তব্ধতা—শহরের ব্যস্ততা থেকে যেন একেবারে পালিয়ে আসার জায়গা। ঠিক সেখানেই শীতের ছুটিতে ঘুরতে এসেছিল চার বন্ধু—সৌরভ, অরিত্র, তিয়াসা আর মেহুল। দার্জিলিং থেকে ছোট গাড়িতে এক ঘণ্টার পথ পেরিয়ে, শেষ বিকেলে তারা পৌঁছালো বাতাসিয়াপুর। গ্রামের একদম কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা…

    read more

  • অরণ্যের ওপারে

    অরণ্যের ওপারে

    প্রিয়াঙ্কা অধিকারী পর্ব ১ কলকাতার অফিসপাড়ায় ব্যস্ত সপ্তাহগুলো পেরিয়ে চার বন্ধু—সুমিত, অর্ণব, তনয় আর নিলয়—একসাথে ছুটি নিয়ে উত্তরবঙ্গের এক অজানা জঙ্গলে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ওদের মধ্যে সুমিত একটু বেশিই ঘুরে বেড়ায়, ভৌতিক আর অ্যাডভেঞ্চার গল্পে তার দারুণ আগ্রহ। অর্ণব ছিল দলটার প্ল্যানার, সবকিছু গুছিয়ে রাখতে ভালোবাসে। তনয় একটু চুপচাপ, কিন্তু দরকার হলে ওর মাথা…

    read more