Bangla

চিরদিন বারাণসী

Spread the love

দেবজিত সাহা


শহরের ব্যস্ততা আর অফিসের ধোঁয়াশার মধ্যে চারজন বন্ধু বহুদিন ধরেই ভাবছিলাম কোথাও একটু বেরিয়ে পড়া দরকার—যেখানে সময়ের গতি ধীর, যেখানে প্রতিটা সকাল নতুন, আর প্রতিটি সন্ধ্যা যেন এক অন্য অনুভব। বহু আলোচনার পরে ঠিক হল—বেনারস। না, কেউ আগে যায়নি। আমরা কেউই জানি না সেই গলির বাঁকগুলো, জানি না গঙ্গার ঘাটে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়ের সেই রং কেমন, বা বিশ্বনাথ মন্দিরের গম্বুজ দেখে মনে হয় কী!

যাত্রার দিন রাতে আমরা পৌঁছাই হাওড়া স্টেশনে। রাত তখন অনেকটাই গড়িয়েছে, প্ল্যাটফর্মে ট্রেন আসার অপেক্ষায় লোকজনের ছোটাছুটি। চারপাশে যেন এক অদ্ভুত উত্তেজনা—অর্ক ব্যাগ গোছাচ্ছে বারবার, সায়ন শেষ মুহূর্তে পাঁপড় আর চানাচুর কিনে ফেলেছে, আর দীপ্ত খালি বলেই চলেছে, “রাত জেগে বারাণসী যাব, ঘুমিয়ো না কেউ, পুরো যাত্রাটা উপভোগ করতে হবে।” সুব্রত, মানে আমি, সবকিছু চুপচাপ দেখে যাচ্ছি—আমার মাথায় তখন কেবল একটা কল্পচিত্র, গঙ্গার তীরে বসে কুয়াশা মেখে থাকা এক সকাল।

ট্রেন ছাড়ল রাত ১০টা পেরোতেই। জানালার বাইরে অন্ধকার ছুটে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে কোনও অজানা স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াচ্ছে, আবার চলেও যাচ্ছে। কথা, হাসি, মোবাইলে গান—সব মিলিয়ে রাতটা পার করে দিলাম। কেউ কেউ একটু ঘুমোচ্ছে, কেউ বই পড়ছে, কিন্তু একটা অভিন্ন অনুভূতি সবার মনে—এটা একটা নতুন অভিযানের শুরু।

ভোরের আলোয় চোখ খুলতেই বুঝলাম, ট্রেন বারাণসীর সীমানায়। জানালার বাইরে তখন কুয়াশা জমে আছে, গাছগাছালি যেন ধোঁয়ার মতো ভেসে আছে হালকা আলোয়। প্ল্যাটফর্মে নামতেই ঠান্ডা বাতাস মুখে এসে লাগল। গরম নিঃশ্বাস ছেড়ে চারদিকের দিকে তাকিয়ে মনে হল—এটা অন্য এক ভারত, সময় এখানে স্থির।

স্টেশন থেকে রিকশা নিয়ে রওনা হলাম আমাদের হোটেলের দিকে—গঙ্গার পাড়ে একটা পুরনো দোতলা বাড়ি, এখন গেস্ট হাউসে পরিণত। হোটেলে পৌঁছে গরম জল দিয়ে স্নান করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম, সোজা গলির ভিতরে। এটা কোনও শহরের সাধারণ গলি নয়। একেকটা গলি যেন ইতিহাসের পাতায় লেখা কোনও গল্প—দেওয়ালে হাতের লেখা, কালীঘাট স্টাইলে আঁকা পোস্টার, পুরনো লোহার কপাট, গাছের ডালে বাঁধা হলুদ কাপড়, আর ঠাকুরের ছোট ছোট মন্দির। গলির মোড়ে মোড়ে গরম চা, মালাইয়ো, কচুরি-সাব্জির দোকান। একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গরম মালাইয়ো খেলাম—দুধের হালকা ফেনা, ঠান্ডা হাওয়া, আর মুখে এক অপার্থিব মিষ্টি স্বাদ। দোকানদার হেসে বলল, “সাহেব, এইটা শীতের প্রাণ—জানুয়ারি গেলে পাবেন না।”

আমরা হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছালাম কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে। সেখানে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখি মানুষের ঢল, পুলিশের পাহারা, অথচ একটা অদ্ভুত শান্তি চারপাশে। মন্দিরের অভ্যন্তরে ঢুকে সেই পুরনো পাথরের মেঝে, ধূপের গন্ধ, এবং পুরোহিতের কণ্ঠে গাওয়া স্তোত্র—সব মিলিয়ে মনে হল যেন অনেক জন্মের পর এই পবিত্র জায়গায় এলাম। সেখান থেকে সোজা চলে গেলাম দশাশ্বমেধ ঘাটে। গঙ্গার পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্য তখন মাথার ওপরে। নৌকায় করে খানিকটা ভেসে বেড়ালাম। চারদিকে শুধু ঘাট, চূড়া, গম্ভীর মুখে বসে থাকা সন্ন্যাসী, কাপড় কাচছে এমন মানুষ, আর ছেলেমেয়েদের কচিকাঁচা সাঁতার। পানির ওপর দিয়ে হালকা হাওয়া বইছে, আর আমরা চুপচাপ, যেন শহর আমাদের মন পড়ে ফেলছে। দুপুরে একটা ছোট দোকানে খেলাম তমেটো চাট, বেনারসের বিখ্যাত খাবার। তাতে পেঁয়াজ, ধনে পাতা, মশলা আর টক-ঝালের এমন সমন্বয়, যা আমাদের কলকাতার স্ট্রিট ফুডকে টক্কর দিতে পারে। পরে খেলাম বেনারসি লাচ্ছা আর মালাই টোস্ট—যা গরম দুধ আর চিনির এক অনবদ্য মিশ্রণ। সন্ধ্যায় আবার দশাশ্বমেধ ঘাটে ফিরে এলাম। তখন আরতির প্রস্তুতি চলছে। ঘাটের ধাপে ধাপে মানুষ বসে আছে, কেউ গঙ্গার দিকে তাকিয়ে আছে চুপ করে, কেউ প্রার্থনায় মগ্ন। অন্ধকার নামতেই ঘন্টা, শঙ্খ আর প্রদীপের আলোয় গোটা গঙ্গার পাড় যেন রূপকথার রাজ্যে রূপ নিয়েছে। আমরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সেই দৃশ্য দেখলাম, কাউকে কিছু বলতে ইচ্ছে করল না—শুধু মনে হচ্ছিল, এটাই ভারতের আত্মা। রাত্তিরে হোটেলে ফিরে এসে বিছানায় পড়তেই বোঝা গেল, শরীর ক্লান্ত হলেও মন এতটাই ভরে গেছে যে ঘুম আসছে না। বারাণসী, তোমার প্রতিটা মুহূর্ত এতটাই নিবিড়, এতটাই জীবন্ত, যে মনে হচ্ছে ইতিহাস, ধর্ম, খাবার, আর মানুষের সহজতা মিলে একটা নতুন পৃথিবী তৈরি করে রেখেছ।

ভোরের আলো যেন একটু একটু করে জানালার পর্দা সরিয়ে আমাদের ঘুম ভাঙাল। গঙ্গার পাড়ে হোটেল হওয়ার একটাই সুবিধা—ঘুম ভেঙেই জানালা খুললে দেখা যায় ধূসর-সোনালি আলোয় ধুয়ে যাওয়া গঙ্গার জল, আর সেই অপার্থিব কুয়াশার মাঝে নৌকো ভেসে যাওয়ার শব্দ। সায়ন উঠে মুখ ধুয়ে বলল, “আজকে দিনটা পুরোটাই রিজার্ভ করব ইতিহাসের জন্য—সরনাথ আর রামনগরের দিকেই যাওয়া যাক।”

আমরাও রাজি। সকালের নাস্তা হোটেলের পাশে একটি পুরনো দোকানে খেলাম—গরম গরম কচুরি, আলুর তরকারি আর তার সঙ্গে এক কাপ আদা চা। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ভীষণ শান্তির। ব্যস্ততা নেই, কেউ তাড়া করছে না, সকালের আলোতে যেন সময় নিজে কিছুটা ধীর হয়ে এসেছে। রিকশা নিয়ে রওনা দিলাম সরনাথের দিকে—বেনারস থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। পথ যতই এগোচ্ছিল, শহরের গলি ধীরে ধীরে ফাঁকা হচ্ছে, পুরনো বাড়ির বদলে জায়গা নিচ্ছে খোলা মাঠ, নারকেল গাছের ছায়া আর ধানখেতের রেখা। সরনাথ পৌঁছে মনে হল, এখানে বাতাসেই যেন একরকম গাম্ভীর্য মিশে আছে। এখানে গৌতম বুদ্ধ প্রথম ধর্মচক্র প্রবর্তন করেছিলেন, শিষ্যদের প্রথম উপদেশ দিয়েছিলেন। ধর্মচক্র, স্তূপ, খোদাই করা স্তম্ভ—সব দেখে মনে হল, ইতিহাস এখানে নিঃশ্বাস ফেলে গেছে। ধর্মরাজিকা স্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে সায়নের মুখেই প্রথম সেই কথা উঠল, “ভাব, আড়াই হাজার বছর আগে এইখানে মানুষ জড়ো হতো এক নতুন ভাবনার খোঁজে।” চারপাশে পায়ে হেঁটে ঘুরলাম, গাইডের মুখে গল্প শুনলাম—কীভাবে অশোক স্তম্ভ এখানে বসানো হয়েছিল, কীভাবে বিভিন্ন সভ্যতা এসে এই স্থানের সংরক্ষণ করেছে। মিউজিয়ামেও ঢুঁ মারলাম—সেখানেই দেখা গেল বিখ্যাত ‘আশোক চক্র’ যার রূপ আজ ভারতের জাতীয় প্রতীক।

সেখানে বসেই একটু জিরিয়ে নিয়ে দুপুরে খেলাম হালকা খাবার—ডাল, রুটি আর বুন্দেলখণ্ডি-style সবজি। শান্তিতে খাওয়া বলতে যা বোঝায়, ঠিক তাই। চুপচাপ, গাছের ছায়ায় বসে দুপুর গড়ানো দেখলাম। পাখির ডাক, ঠান্ডা বাতাস আর এক অনুচ্চ স্বরে বৌদ্ধ স্তবের সুর যেন মুহূর্তগুলোকে জড়িয়ে ফেলছিল। দুপুর গড়িয়ে গেলে রওনা দিলাম রামনগর দুর্গের দিকে। গঙ্গার ওপারে অবস্থিত এই প্রাসাদ এক সময় বেনারসের মহারাজার বাসভবন ছিল। পাথরের প্রাসাদটা বাইরে থেকে যতটা বর্ণহীন, ভেতরে ততটাই ইতিহাসে ভরা। পুরনো আসবাব, রাজাদের ব্যবহৃত পালঙ্ক, ঘোড়ার গাড়ি, অস্ত্রশস্ত্র, এমনকি হাতঘড়ির বিরল সংগ্রহ—সব মিলিয়ে যেন একটা চলমান সংগ্রহশালা। এখানেও গাইড আমাদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বলছিলেন, “এই জায়গা থেকেই মহারাজা দশাশ্বমেধ ঘাটে গঙ্গা আরতির জন্য নৌকায় যেতেন, রাজকীয় পোশাকে।”

দুর্গের পেছন দিক থেকে গঙ্গার ভিউ এমন ছিল, যেন সময় থেমে আছে। চারপাশে কাক, ধূপের গন্ধ, জলের আলতো ঢেউ, আর আমরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়েছি বারানসীর অতীতের দরজায়। সন্ধ্যা নামার মুখে আবার ফিরে এলাম দশাশ্বমেধ ঘাটে। দ্বিতীয় দিনের ঘাটও নতুন এক অভিজ্ঞতা। আজকে গঙ্গার পাড়ে মানুষের ভিড় আরও বেশি, কিন্তু তার মধ্যেও এক অদ্ভুত ছন্দ। ঘাটে বসে একজন বয়স্ক সন্ন্যাসীর সঙ্গে কথা বললাম, যিনি বললেন, “বেনারস একটা শহর না, এটা এক নেশা। এখানে যে একবার আসে, তার মন পড়ে থাকে।”

রাতের দিকে আমরা হাঁটতে হাঁটতে ফিরে এলাম হোটেলে। পথে খেলাম তমেটো চাট, বেনারসের কুল্ফি, আর শেষে এক কাপ গরম দুধে ভেজানো মালাই টোস্ট। রাস্তায় তখন দোকানগুলো আধখোলা, চায়ের কাপে ধোঁয়া আর কুয়াশার ভেতর ঘুমন্ত বারাণসী। হোটেলে ফিরে বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করতেই চারপাশে যেন এখনও সেই ঘাট, সেই স্তূপ, আর সেই রাজপ্রাসাদের ছায়া। দ্বিতীয় দিনেও বেনারস আমাদের চমকে দিয়ে গেল—একবার ইতিহাসে, একবার পবিত্রতায়, আর একবার নৈঃশব্দ্যে।

তৃতীয় দিনের সকালটা যেন আগের দুই দিনের চেয়ে একটু বেশি আবেগময়। জানালার বাইরে গঙ্গার জলে সূর্যের প্রতিফলন, পাড়ের চায়ের দোকানে সেই পরিচিত কলরব, আর পাখিদের ডাক—সবকিছু এতটাই আপন হয়ে উঠেছে যে মন জানে, এটাই শেষ সকাল, আজ ফিরতে হবে। সকালে হোটেলের ছাদে উঠে আমরা চারজন চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। অর্ক হঠাৎ বলল, “এ শহরের যে গন্ধটা, সেটা কি অন্য কোথাও পাওয়া যাবে?” সায়ন হেসে বলল, “শুধু গন্ধ না রে, বারাণসীর সময়টাই আলাদা—এখানে মানুষ ধীরে হাঁটে, মন জেগে থাকে।” দীপ্ত একটা ছবি তুলতে তুলতে বলে উঠল, “এই শহর একবার নয়, বারবার ডাকে।”

আজকের গন্তব্য—বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (BHU) আর তারপর বেনারসি সিল্কের বাজার। সকালে হালকা করে খেলাম—দুধে ভেজানো রাবড়ি টোস্ট আর গরম কচুরি। এরপর অটো করে রওনা দিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। BHU-র প্রধান ফটক পেরিয়ে ঢুকতেই বোঝা যায়, এটা শুধু একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটা এক ঐতিহ্য। বিশাল সবুজ ক্যাম্পাস, মাঝে মাঝে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা, পুরনো ভবন আর আধুনিক স্থাপত্যের মিলেমিশে থাকা এক বিরাট সংস্কৃতির আঙিনা। এখানে যেন শিক্ষার সঙ্গে সাধনার মিশেল। ভারতরত্ন পণ্ডিত মদন মোহন মালব্য প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় যেন বারাণসীর অন্য এক রূপ।

আমরা ঘুরলাম ভারত কলাভবন জাদুঘরে, যেখানে অসাধারণ চিত্রকলা আর প্রাচীন শিল্পকর্মের সংগ্রহ দেখা গেল। দীপ্ত ছবি তুলতে ব্যস্ত, অর্ক মন দিয়ে দেখছে প্রাচীন বাংলা হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি। ঘোরাফেরার মাঝে সায়ন হঠাৎ বলল, “এই ক্যাম্পাসে পড়লে জীবনটাই বদলে যেত।”

বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে বেরিয়ে এলাম সোজা সোনারপুরা অঞ্চলের সিল্কের গলিতে। এই বেনারসি শাড়ির পাড়া যেন আরেক জগত। গলির ভিতরে ছোট ছোট কারখানার দোকান, কাঠের চরকিতে সুতো টানা, মেশিনে বোনা চলছে, আর দোকানের সামনের চাতালে বসে চা খাচ্ছেন কারিগররা। এক দোকানের ভেতরে গিয়ে দেখলাম বেনারসি শাড়ির সম্ভার—কখনও রাজপুতানা কাজ, কখনও মুগা সিল্ক, কখনও ঝাড়খণ্ডি প্যাটার্নে সোনালি পাড়। দোকানদার বলল, “দাদা, সব হাতের কাজ। একেকটা শাড়ি বানাতে ১৫ দিন লেগে যায়।”

দীপ্ত তার মায়ের জন্য একটা নীল রঙের শাড়ি নিল, যার পাড়ে সূক্ষ্ম ময়ূরপঙ্খি কাজ। আমরা বাকিরা শুধু দেখে গেলাম—শুধু কাপড় না, যেন চোখের সামনে ইতিহাস বোনা হচ্ছে। দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার আগে ফিরে এলাম ঘাটে। এবার কোনও ঘুরে বেড়ানো নয়—শুধু বসে থাকা, তাকিয়ে থাকা গঙ্গার দিকে, আর মনের ভেতর এই তিনদিনের স্মৃতিগুলো ধরে রাখা। ঘাটে বসে চা খেতে খেতে অর্ক বলল, “বারাণসী একভাবে মানুষকে ছাড়ে না। ফিরে গেলে দেখবি, বারবার মনে পড়বে।” সায়ন যোগ করল, “এ শহরের একটা অলৌকিক টান আছে। আমি বুঝতে পারছি কেন এত কবি-সাধু এখানে এসে থেমে গেছেন।”

শেষবেলায় হোটেলে ফিরে ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম। স্টেশনের দিকে রওনা দেওয়ার আগে আরেকবার দশাশ্বমেধ ঘাটে এক ঝলক চোখ রাখলাম। সন্ধ্যার আলোতে গঙ্গার জল যেন একরাশ স্মৃতির মত উজ্বল হয়ে উঠেছে। ট্রেনে উঠে জানালার পাশে বসে দীপ্ত ফিসফিস করে বলল, “তুই লিখে ফেল, রুদ্র। এই তিন দিনের গল্প লিখে রাখ। কারণ বারাণসী ভুলে থাকাটা ঠিক নয়।” আমি মাথা নাড়লাম। লিখতেই হবে—এই শহরের মতো এত নিরব, অথচ এত বর্ণময় শহর আর নেই। এখানে সময় স্রোতের মতো বয়ে যায়, আর মানুষ নিজের অস্তিত্বের সুরটাকে খুঁজে পায়।

বারাণসী আমাদের ছেড়ে দিল ঠিকই, কিন্তু আমরা জানি—এই শহরের আলো, গলি, ঘাট আর গন্ধ চিরকাল আমাদের ভেতরে বেঁচে থাকবে।

1000022499.png

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *