Bangla

অন্তরাল

Spread the love

উমেশ মাহাতো


পুরুলিয়ার ঘন অরণ্যের কোলে এক নামহীন ছোট্ট গ্রাম। গ্রামটির নাম কেউ জানে না, তবে এলাকাবাসী সবাই এই গ্রামটিকে ‘অন্তরাল’ বলে ডাকে। প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এই গ্রামটির জীবনযাত্রা সাদাসিধে, নির্মল ও পরিপূর্ণ। প্রতিদিন সূর্যের প্রথম কিরণ পড়তেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে গ্রামের মানুষ। মাটির ঘরগুলো ছাদে খড়ের চুয়াড়ি আর সামনে লতাপাতা ঝুলানো বারান্দা যেন সময়ের হাতছানি ধরে রেখেছে বহু পুরনো ইতিহাস।

গ্রামের প্রতিটি মানুষই কৃষিকে জীবিকার মূল উৎস মনে করে। এখানে ধান চাষ প্রধান, আর বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও মসলা চাষও কম নয়। সকালে, কৃষকেরা তাদের বেলচা নিয়ে ধানের খেতের দিকে এগিয়ে যায়। ফসল ঘাসফড়িংয়ের গন্ধে ভরে ওঠা মাটির গন্ধে মিশে থাকে প্রাণের এক অনিন্দ্য সুর। মাটি চিরকালই এই গ্রামের মানুষের গর্ব।

এখানকার মহিলারা খুবই দক্ষ। সকালবেলা ঘরে ফিরে পিঠা তৈরির ব্যস্ততা থাকে তাদের। পাটিসাপটা, মোহনপিঠা, সন্দেশ আর বাগরো—এসব গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য। রান্নাঘরে মাটির চুলায় ভাজা পিঠার গন্ধ গা ঘেঁষে আসে, যা গ্রামের ছেলেমেয়েদের মুখে হাসি ফোটায়। উৎসবের দিনে বাড়ি বাড়ি মিষ্টান্নের সাজে ভরে উঠে।

মজুমদার দাদা, গ্রাম্য বয়স্ক মানুষ, যিনি গ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির জীবন্ত ভাণ্ডার। তিনি যখন বটগাছের ছায়ায় বসে গ্রাম্য ইতিহাস শোনান, সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনে। তার কথা থেকে শিখতে হয় জীবনের কঠিন সময়, গ্রামের সংস্কৃতির গুরুত্ব, আর প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা।

একদিন, শহর থেকে এসেছিলেন রাজীব, একজন যুবক শিক্ষক। তার সঙ্গে গ্রামের পরিবেশে নতুন কিছু এসে যায়—কম্পিউটার শিক্ষা, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি আর নারীদের প্রশিক্ষণ। প্রথমে গ্রামের বয়স্করা তাকে সন্দেহের চোখে দেখলেও, ধীরে ধীরে তারা বুঝতে পারে রাজীব গ্রামের উন্নতির জন্য কাজ করছে। নারীরা তার কাছে সেলাই-বুনন আর অন্যান্য কাজে হাতেখড়ি পেতে শুরু করে, আর যুবকরা আধুনিকতার দিক নিয়ে ভাবতে শুরু করে।

রবির, মজুমদার দাদার নাতি, রাজীবের সঙ্গে কাজ করে নিজের স্বপ্ন দেখে গ্রামের মেয়েদের শিক্ষিত ও শক্তিশালী করার। সে জানে, আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনেই গ্রাম উজ্জ্বল ভবিষ্যত পাবে। রবির মা তাকে শিখিয়েছে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও জীবনের সহজতা, আর রাজীব তাকে দেখিয়েছে আধুনিকতার আলো।

গ্রামের প্রতিটি দিন গড়ায় মাটির গন্ধ, ঝরনার কলতান, আর মানুষের হৃদয়ের গল্প নিয়ে। গ্রামের শিশুদের মুখে হাসি, যুবকদের চোখে স্বপ্ন আর বয়স্কদের স্মৃতিতে গাঁথা সেই দিনগুলো।

গ্রাম ‘অন্তরাল’-এর প্রাণ ঠিক তখনই সবচেয়ে বেশি জেগে ওঠে যখন বছর ঘুরে উৎসব আসে। আর এই উৎসবগুলো যেন শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রকাশ। পুরো গ্রাম এক হয়ে ওঠে, বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম বা শ্রেণিভেদ ভুলে মানুষ একত্রিত হয় উৎসবের আনন্দে।

প্রথমেই আসে বসন্ত উৎসব। পলাশের ফুলে লাল হয়ে ওঠা মাঠ আর গাছে গাছে ফুলের গন্ধে ম ম করে গ্রামের আকাশ-বাতাস। বসন্ত উৎসবের সকালে গ্রামের প্রবীণরা বটগাছের নিচে বসে ফুলের মালা তৈরি করেন। তরুণীরা হলুদ আর সাদা শাড়ি পরে, কপালে ছোট্ট টিপ, হাতে গাঁথা ফুলের চুড়ি। ঢাক-ঢোলের আওয়াজে গুঞ্জরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। নাচে-গানে-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে অন্তরাল। বাচ্চারা আবির মেখে ছোটাছুটি করে, আর বয়স্করা গায় লোকগীতি—

“ফুল ফুটুক, প্রাণ জাগুক, অন্তরাল হাসুক—আলোয় ভরে উঠুক!”

এই দিনে একটি বিশেষ আয়োজন হয়—“রঙের যাত্রা”। গ্রামের যুবকেরা ও নারীরা দুই দলে ভাগ হয়ে গ্রামজুড়ে ঢাক বাজিয়ে, গানের সুরে ঘুরে ঘুরে রঙ ছেটায় সবার গায়ে। অথচ এ এক লড়াই নয়—এ এক মিলনের যাত্রা। যাত্রার শেষে সবাই মিলে পিঠে, মুড়ি-মাখা আর দই দিয়ে প্রভাতভোজ করে। এমন সম্মিলন অন্য কোনো সময়ে দেখা যায় না।

এরপর আসে নবান্ন। এই উৎসব মূলত ফসল কাটার আনন্দে উদযাপিত হয়। মাঠ থেকে নতুন ধান ঘরে ওঠার পর প্রতিটি পরিবার মাটির হাঁড়িতে পায়েস রান্না করে। সকালে সূর্যকে প্রণাম করে, আর পায়েসের প্রথম ভাগ তাঁকে উৎসর্গ করা হয়। তারপর গ্রামের কেন্দ্রে বড় উঠোনে সবাই একত্রিত হয়ে পঞ্চব্যঞ্জন সহযোগে মধ্যাহ্নভোজ করে। পাটালিপাতা বিছিয়ে খাওয়া হয় ভাত, শাক, ডাল, আলুভাজা আর মাছ। খাবারের শেষে নারকেল সন্দেশ, আর সজনে ফুলের বড়া।

এই দিনে গ্রামের এক অদ্ভুত প্রথা হলো “ধান গানে মেলা”। পুরুষ ও নারী আলাদা আলাদা করে ধানের গুনগান করে গান গায়। যেমন:

“ওরে আমার সোনার ধান,তুই আমার প্রাণের জান।

চাষির ঘামে তুই যে ফলিস, আমার আশা তুই যে চলিস!”

বাচ্চারা ধানের গুদামের সামনে দাঁড়িয়ে হুল্লোড় করে, আর যুবকেরা মাটির মঞ্চে নাটক করে। নাটকের বিষয় হয় কৃষির গুরুত্ব, কিংবা গ্রামের পুরনো কোনো কিংবদন্তি। পুরো উৎসব জুড়ে থাকে এক স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ যা শহরের ইলেকট্রিক আলোয় হয়ত নেই, কিন্তু হৃদয়ের আলোয় ভরপুর।

চড়ক পূজা আরেকটি বিস্ময়কর উৎসব। শিবের আরাধনায় গ্রামের প্রাচীন পুকুর পাড়ে বিশাল চড়ক গাছ পোঁতা হয়। সাহসী যুবকেরা শারীরিক কসরত দেখিয়ে মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও ভক্তির আবেশ ছড়ায়। কেউ কেউ কাঁটার ওপর হেঁটে যায়, কেউবা নিজের পিঠে লোহার হুক গেঁথে চড়ক গাছে ঝুলে। এটা যেন ঈশ্বরের প্রতি নৈবেদ্য, আত্মত্যাগের রূপ। পাশে মেলা বসে, মাটির খেলনা, চুড়ি, হস্তশিল্প আর পিঠা-পায়েসে ভরে ওঠে গ্রামের পাড়া।

মেলায় সরোজিনী মাইয়া তার তৈরি ‘কাঁথার থলি’ আর ‘পুরুলিয়া বাঁশি’ বিক্রি করেন। রাজীব সেই সময় গ্রামের শিশুদের জন্য এক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন—আবৃত্তি, ছবি আঁকা, আর লোকগান গাওয়া।

সবচেয়ে আবেগঘন উৎসব ছিলো “গ্রাম বরণ”, যা বছরে একবার আয়োজন হয় নতুন শিশুর জন্ম উদযাপন করতে। পুরো গ্রামে যেসব শিশু সেই বছরে জন্ম নেয়, তাদের নাম ঘোষণা করা হয়, আর সবার সামনে তাদের মায়েদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পুরনোরা বলেন—

“এই শিশুগুলোই আমাদের আগামী, এদের হাতেই থাকবে ‘অন্তরাল’-এর ভবিষ্যৎ।”

এ সময় গান গাওয়া হয়—

“মাটির কোলে ফুল ফুটুক, নতুন প্রাণ আলো দেখুক।

এই গাঁয়ে নাম না থাকুক,তবু মুখে হাসি থাকুক।”

সবশেষে, সন্ধ্যাবেলায় বটগাছের নিচে বসে গান-বাজনা আর কীর্তনের মাধ্যমে শেষ হয় দিনের আয়োজন। একে একে মানুষ বাড়ি ফেরে, কিন্তু হৃদয়ে থেকে যায় উৎসবের রঙ, ধানের ঘ্রাণ আর গানের ছায়া।

গ্রামের শান্ত দিনগুলো কাটতে কাটতে একদিন আসে নানা পরিবর্তনের আগমন। রবির যখন নতুন স্বপ্ন বোনা শুরু করলো, ঠিক তখনই গ্রামের পুরনো কাঠামোয় ঢুকে পড়ল আধুনিকতার আলো। শহরের তরুণ রাজীব শিক্ষক যার আগমন গ্রামের জন্য ছিল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সে শুধু শিক্ষাদান করল না, পাশাপাশি গ্রামবাসীদের আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, সেলাই-কাটার প্রশিক্ষণ আর কম্পিউটার শিক্ষাও দিলো। নারীরা যখন প্রথম কম্পিউটার শেখা শুরু করল, অনেকেই অবাক হয়ে দেখল কিভাবে ছোট ছোট হাতগুলো টেবিলের পাশে বসে কিবোর্ডে হাত বাড়িয়ে দেয়।

গ্রামের এক অন্যতম চরিত্র ছিলো সরোজিনী মাইয়া, একজন বিধবা মহিলা যিনি একলা হাতে গ্রাম্য নারীদের জীবন বদলাতে চেয়েছিলেন। সরোজিনী মাইয়া ছিলেন পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী বুনন শিল্পের কুশলী। তার হাতে তৈরি বুনো শাড়ি আর ঝুমকা শুধু গ্রামেই নয়, আশেপাশের বাজারেও জনপ্রিয়। সরোজিনীর বুনন কর্মশালা রাজীবের অনুপ্রেরণায় নতুন এক রূপ পেতে শুরু করল, যেখানে তরুণীরা শিখতে লাগল আধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে ঐতিহ্যের মিলন ঘটানো। সরোজিনীর জীবন ছিল সংগ্রাম আর সম্মানের মিশেল, যিনি নতুন প্রযুক্তিকে নিজের করে নিয়ে গ্রামের নারীদের এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

গ্রামের বেকার যুবকদের জন্য রাজীব চালু করেছিলো আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণ। বীজ রোপণ থেকে শুরু করে ফসল তোলা পর্যন্ত নতুন কৌশল শেখানো হয়। রবির, তার ছাত্র, যিনি একই সাথে রাজীবের আদর্শ অনুসরণ করতেন, গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কাজ করে নতুন নতুন উদ্ভাবন এনেছিলো। তার উদ্যোগে চালু হয়েছিলো ‘জৈব সার’ ব্যবহার, যা গ্রামকে রাসায়নিক সার থেকে দূরে নিয়ে আসেছিলো। গ্রামের ধানক্ষেতগুলো এখন আর শুধু পুরানো নিয়মেই নয়, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সোনা ঝলমল করছে।

গ্রামের খাদ্যসংস্কৃতিও ছিলো চিরন্তন। পাটিসাপটা, মোহনপিঠা, সন্দেশ, বেগুন ভাজা, আর ঝরনা থেকে ধরা মিঠা মাছ—এসব খাদ্য গ্রামবাসীর প্রতিদিনের সঙ্গী। রান্নাঘরে মাটির হাঁড়িতে রান্না হত এসব খাবার, যা স্বাদের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের হৃদয়েও বাস করতো। বিশেষ করে উৎসবের সময়, গ্রামে আসতো অনেক অতিথি, যাদের সেবায় নানান রকম পিঠা তৈরি হতো। গ্রামের ছোট ছোট মেয়েরা পিঠা বানাতে শেখতো, আর তাদের হাতে হাত মেলাতো বৃদ্ধা নারীরা।

একদিন, গ্রামে ঘটে গেলো একটি ঘটনা যা পুরো গ্রামের জীবনকে ছুঁয়ে যায়। গ্রামের এক প্রিয় যুবক, সুমন, যিনি শহরে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ফিরে এসেছিলেন, হঠাৎ করেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিলো, কিন্তু অসুবিধা ছিলো শহরের আধুনিক হাসপাতালের দূরত্ব। এই সময় রাজীবের উদ্যোগে গ্রামের নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। গ্রামের সবাই মিলেমিশে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে শুরু করে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা অনেক উন্নত হয়। সুমনের আরোগ্য হয় আর সে আবার ফিরে আসে গ্রামের কাজে হাত দিতে। এই ঘটনা গ্রামের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যের শক্তিকে আরও গভীর করে তোলে।

রবির, যিনি গ্রামে আধুনিক শিক্ষার দূত, এখন গ্রামকে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের দৃষ্টান্তে পরিণত করতে চলেছেন। তার পরিকল্পনা ছিলো গ্রামের প্রতিটি মেয়েকে শিক্ষিত করা এবং তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তিনি সরোজিনী মাইয়ার বুনন কর্মশালাকে আধুনিকায়ন করে তৈরি করলেন একটি ক্ষুদ্র শিল্প গ্রাম হিসেবে, যা এখন এলাকার অন্যতম সেরা।

গ্রামের প্রতি কোণে, মাঠে, নদীর ধারে, ঝরনার পাশে মানুষ তাদের জীবনের গল্প গড়ে তুলছে। প্রাচীন দিনের গৌরব, উৎসবের আনন্দ, প্রেমের মাধুর্য আর সংগ্রামের গাঁথা মিশে আছে গ্রামের মাটির গভীরে। আধুনিকতার ধাক্কায় অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু তারা কখনো শিকড় ভুলেনি। বরং ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে মেলানোর মাধ্যমে তারা তৈরি করেছে এক শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন।

শিশুরা এখন স্কুল থেকে ফিরে কম্পিউটারের সঙ্গে পরিচিত, আবার বিকেলে বটগাছের তলায় বসে মজুমদার দাদার গল্প শোনে। নারীরা আধুনিক সেলাই-বুনন শিখছে, আর পুরুষরা আধুনিক কৃষির দিকনির্দেশনা মেনে কাজ করছে।

গ্রামের প্রতিটি উৎসব এখন আরো জীবন্ত, যেখানে পুরনো ধুনুর সাথে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া মিশে এক নতুন সংস্কৃতি সৃষ্টি হচ্ছে। বটগাছের নিচে বসে গ্রামের মানুষ গান করে, আর সন্ধ্যেবেলা সবাই একসঙ্গে বসে কথা বলে গ্রামের উন্নয়ন নিয়ে।

‘অন্তরাল’ এখন শুধু এক নামহীন গ্রাম নয়, বরং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনের এক অনন্য স্থল। যেখানে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে মিলে সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছে, তাদের শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে।

1000022505.png

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *