ভূতের গল্প

  • ভূতের হেঁসেল

    ভূতের হেঁসেল

    সুশান্ত নস্কর অধ্যায় ১: উল্টোপাড়ার পোস্টমাস্টার নতুন পোস্টিং নিয়ে নবীনচন্দ্র যখন উল্টোপাড়া নামক গ্রামে পা রাখে, তখন সূর্য প্রায় অস্ত যায় যায়। কাঁকর-পাথরের রাস্তা ধরে রিকশা করে এসে সে নেমে পড়ে পোস্ট অফিসের সামনের ছোট্ট উঠোনে। চারদিকে ঝুপঝুপে গাছ, গাছের ফাঁক দিয়ে ছোট্ট করে দেখা যায় লালচে রঙের কাঠের দরজাওয়ালা সেই অফিসঘরটা। তার সঙ্গে গাঁয়ের…

    read more

  • ভূতের প্রেমে চার পাগল

    ভূতের প্রেমে চার পাগল

    রক্তিম জানা বাড়িটা একটু বেশিই ঠান্ডা বিকেল পাঁচটা বাজতে না বাজতেই চারজন দাঁড়িয়ে ছিল পাণ্ডুগ্রামের পুরনো ‘সিংহবাড়ি’র সামনে। সাদা রঙের ছোপ ছোপ দেয়াল, বড় বড় কাঠের জানালা, আর ছাদের কিনারা দিয়ে বেয়ে নামা আগাছা দেখে মনে হচ্ছিল বাড়িটা কাঁদছে। “এই বাড়িতেই না তোর মামাবাড়ি ছিল, বুদু?”— প্রশ্ন করল চঞ্চল, যার চশমার কাঁচের পেছন থেকে সবসময়…

    read more

  • ছায়াসঙ্গী

    ছায়াসঙ্গী

    মৃনাল সরকার পর্ব ১ ঘড়ির কাঁটা তখন বিকেল পাঁচটা ছুঁই ছুঁই। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বানানো সেই পুরনো বাংলোটা একা দাঁড়িয়ে ছিল পাইন আর ওক গাছের ছায়ার নিচে। অরুণাভ যখন গেট খুলে ঢুকলো, সামনের রাস্তায় আর কোনো গাড়ি ছিল না, কোনো মানুষও না। সবকিছু যেন নিঃশব্দে অপেক্ষা করছিল তার আগমনের জন্য। বাংলোর নাম ‘শান্তিনিকেতন’, যদিও এই…

    read more

  • গহন রাতে ডাকিনীর ডাকে

    গহন রাতে ডাকিনীর ডাকে

    অমিয় দাসগুপ্ত 📜 অধ্যায় ১ বীরভূমের বুক চিরে যে সরু মেঠো পথগুলো কুড়ুলগাছ, শিমুলগাছের ছায়ায় মিশে গেছে শূন্যের অতলে, সেই পথে রাতের নিস্তব্ধতায় শুধু শোনা যায় দূরের শিয়ালের ডাক আর ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা সুর। সেদিনের রাত যেন আর পাঁচটা রাতের মতো নয়। পূর্ণিমার আলোয় ভিজে থাকা সেই রাত কেমন এক গা ছমছমে হাওয়ায় কেঁপে উঠছে…

    read more

  • চৌরঙ্গীর ছায়া

    চৌরঙ্গীর ছায়া

    ইমন দে পর্ব ১ শিলিগুড়ির দক্ষিণ চৌরঙ্গী এলাকায় একটা পুরনো দোতলা বাড়ি। লাল ইটের সেই বাড়িটা বেশিরভাগ সময়ই নির্জন। দিনের বেলায় স্থানীয়রা পাশ কাটিয়ে যায়, রাত হলে কেউই পথ মাড়ায় না। লোকজন বলে, বাড়িটার পাশের গলিতে মাঝরাতে কার যেন হেঁটে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়, আবার জানালার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় এক মেয়ের মুখ—মাথায় লাল ঘুঙুরের…

    read more

  • ভূতনাথের বদলি চাকরি

    ভূতনাথের বদলি চাকরি

    হিমাদ্রি মিত্র পর্ব ১: ভূতনাথের বদলির চিঠি ভূতনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন এক অনবদ্য মানুষ—সাহিত্যপ্রেমী, টুপিপরা, চটি পরা, গম্ভীর অথচ দয়ালু। তিনি ছিলেন পূর্ব বর্ধমানের গোপালপুর হাইস্কুলের একজন নামকরা বাংলা শিক্ষক। তবে আজ যা লিখছি, তা তার মৃত্যুর পরের গল্প। কারণ ভূতনাথ, নামের মতোই, এখন একজন পুরোদস্তুর ভূত। মৃত্যুর পর বেশ কয়েক বছর ধরে ভূতনাথ গোপালপুর স্কুলের…

    read more

  • অন্ধকার চৌরাস্তা

    অন্ধকার চৌরাস্তা

    বিপ্লব মুখোপাধ্যায়  অধ্যায় ১  রাতের কলকাতা যেন দিনের চেয়ে অনেক বেশি গল্প লুকিয়ে রাখে, অজয় মনে মনে এই কথাটা বিশ্বাস করত। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো যখন দিনের কোলাহল ছেড়ে নীরবতার চাদরে নিজেকে ঢেকে রাখে, ঠিক তখনই অজয়ের গাড়ির ইঞ্জিন গর্জন করে সেই নীরবতা চিরে ফেলে। সে একজন উবার চালক, সদ্য বিয়ে হওয়া, বয়স হবে বড়জোর সাতাশ-আটাশ।…

    read more

  • জিজি পোলার ডাক

    জিজি পোলার ডাক

    অমিতাভ ধর  অধ্যায় ১: কুয়াশার পথ রাত দশটা বাজে। রাহুল গাড়ির জানালার কাচ খুলে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। হিমেল হাওয়া গাল ছুঁয়ে যাচ্ছে। গাড়ি উঠছে পাহাড় বেয়ে—চুনাভাট্টি, দার্জিলিং-এর এক বিস্মৃত পাহাড়ি গ্রাম, যেটা এখনো পর্যটনের খাতে উঠে আসেনি। পাশে বসা অর্ণব, হাত গুটিয়ে মোবাইলে পাহাড়ি মানচিত্র ঘাঁটছে।— “এটা নিশ্চয়ই শেষ মোড়,” বলে নয়না, জানালার কুয়াশা…

    read more

  • কাঠের পুতুল

    কাঠের পুতুল

    দর্শনা চক্রবর্তী অধ্যায় ১: শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, উত্তর কলকাতার এক নিঃসঙ্গ গলির শেষে দাঁড়িয়ে ছিল পুরোনো এক বাগানবাড়ি—চুন খসা দেয়াল, উঁচু উঁচু কাঠের জানালা, আর চারপাশে পরিত্যক্ত উদ্যান যেন সময়ের ভারে অবনত হয়ে পড়েছিল। এই বাড়িটিই ছিল ঈশিতার ঠাকুরদার পৈত্রিক বাসভবন, যেখানে বহু বছর পর গ্রীষ্মের ছুটিতে মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে এসেছিল সে। ঈশিতা…

    read more

  • পোড়োবাড়ির প্রেতছায়া

    পোড়োবাড়ির প্রেতছায়া

    অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী কলকাতার গরম রোদের মধ্যে দিয়ে হোঁচট খেতে খেতে এক সাদা রঙের সেকেন্ড হ্যান্ড জিপ গ্রামের দিকে এগিয়ে চলেছে। ড্রাইভিং সিটে বসে দীপ, চশমার কাচে ঘাম জমে গেছে, কপালে টপটপ করে ঘামের ফোঁটা পড়ছে। পাশে বসে অমিত, রোদ থেকে বাঁচতে মাথায় কাপড়ের ফেট্টি বেঁধেছে। ওদের দুজনের মুখেই রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার ছাপ। “আর কত দূর,…

    read more

  • সন্ধ্যার পর কেউ আসে

    সন্ধ্যার পর কেউ আসে

    অরিন্দম বসু লালগ্রাম—একটা ছোট্ট, প্রায় ভুলে যাওয়া গ্রাম দক্ষিণবঙ্গের এক প্রান্তে। জনসংখ্যা হাতে গোনা, কিন্তু কাহিনির অভাব নেই। দিন যতই আধুনিক হোক, লালগ্রাম সন্ধ্যা নামতেই আজও হারিয়ে যায় অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতায়। কেউ বলে, এই সময়ে কেউ আসে। কাকে বলা হয় “কেউ”? কেউ জানে না। দেখা যায় না তাকে। কিন্তু তার উপস্থিতি অনুভব করা যায়—মনে হয়…

    read more

  • ঘড়ির ভিতর মুখ

    ঘড়ির ভিতর মুখ

    ঋজু বসু সাঁইবাবা মন্দিরের পেছনের সরু গলি দিয়ে ঢুকলেই একখানা বাড়ি চোখে পড়ে, তার তিন তলা মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন নিজের অস্তিত্বের প্রতিবাদে, অথচ প্রতিটি জানালায় জীর্ণ কাচ, প্রতিটি দেয়ালে কুয়াশার দাগ। রামেশ্বর লেন ৩। লোকেরা বলে, ওটা ঘড়িওয়ালা বাড়ি। কারণ বাড়িটার ভেতর যত ঘড়ি আছে, সব থেমে আছে—ঠিক রাত বারোটায়। কেউ বলে সেগুলো…

    read more