ভূতের গল্প
-
চামেলী মেমসাহেব এর বাংলো
অনির্বাণ ঘোষ পর্ব ১ চামেলী মেমসাহেবের বাংলোটা অনেকদিন পর আবার দেখতে এলাম। ঠিক যেমনটা ছোটোবেলায় দাদুর হাত ধরে প্রথম দেখেছিলাম, অনেকটা তেমনই রয়ে গেছে—আধাভাঙা লাল ছাদের দোতলা কাঠের বাড়ি, সামনের দোলা চেয়ারে শিকল পড়ে আছে, বারান্দার রেলিং ধরা ধরেই বুনো লতা উঠে গেছে ছাদের কিনারা ছুঁয়ে। কুয়াশায় মোড়া রাস্তা ধরে গাড়িটা যখন বাঁক ঘুরে বাংলোর…
-
তিনটে তেত্রিশ
পরিমল মণ্ডল অধ্যায় ১: কুয়াশার ভিতর রাত তখন প্রায় দুটো। বারুইপুর বাইপাস ধরে হালকা কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। দূরের হেডলাইটগুলো কুয়াশার পর্দায় ভেসে আসছে, যেন আলো নয়—ভাসমান চোখ। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর অভিষেক ঘোষাল তার বাইকের হেডলাইট বন্ধ করে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুলিশের নৈশ টহল ছিল তার রুটিন, কিন্তু আজ রাতে কিছু অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছিল…
-
অমাবস্যার বাড়ি
দেবায়ুধ পাল গাড়ি থামল কুঁয়োডাঙায় কুঁয়োডাঙা গ্রামের নামটা প্রথম শুনে মনে হয়েছিল কোথাও একটা গভীর কুয়ো আছে—শুধু গভীর না, এমন কিছু একটা যার দিকে তাকালেই গা ছমছম করে ওঠে। সুজয় যখন গাড়ি থামাল, তখন সন্ধে নামছে। পুরো গ্রাম যেন অন্ধকারের গায়ে চাদর মুড়িয়ে বসে আছে। অল্প আলোয় দেখে বোঝা গেল চারপাশে মাটির ঘর, তাল-খেজুর গাছ,…
-
ভোররাত্রির অতিথি
অসিত মল্লিক ১ শীতের প্রান্তে পৌঁছানো কলকাতা শহর একটু বেশিই নীরব হয়ে পড়ে ভোরের দিকে, বিশেষ করে উত্তর কলকাতার পুরনো লেনে—যেখানে দিনের বেলা হইচই করলেও, রাত গড়ালে শুধু হাওয়ার শব্দ আর পুরনো ঘরদোরের কঁকিয়ে ওঠা শোনা যায়। ঠিক তেমনই এক গলির শেষে দাঁড়িয়ে আছে মিত্র পরিবারের ঠাকুরবাড়ি—এককালে কলকাতার সমাজে যাদের নাম ছিল অতিশয় সম্মানের। আজ…
-
ভবঘুরে লাইব্রেরি
ঋত্বিক বসু ১ শীতকাল তখন ঠিক জমে ওঠেনি, তবে পাহাড়ি হাওয়ায় একটা ঝাঁঝালো ঠান্ডা সকাল নিয়ে হাজির হয়েছিল অভিষেক দাশগুপ্ত। দার্জিলিঙের চৌরস্তা থেকে আরও পঁচিশ কিলোমিটার উপরের দিকে, ছোট্ট একটা পাহাড়ি গ্রাম — ‘চাংথাং’। কেউ শোনেনি শহরে এই গ্রামের নাম, আর যারা শুনেছে, তারা এটাকে এড়িয়ে গেছে বছরের পর বছর। অভিষেক কিন্তু ইচ্ছা করেই এখানে…
-
ছায়ার নিচে বাড়ি
শুভ্রনীল দত্ত পর্ব ১: ফিরে আসা বাড়িটার নাম মধুবন কোঠি হলেও সেখানে এখন আর মধু নেই, নেই কোঠির আভিজাত্য। কয়েক দশক আগেও যেখানে চিত্রশিল্পীরা আসতেন রং তুলিতে ধরতে তার সৌন্দর্য, এখন সেখানে কেবল ধুলো, ঝোপঝাড় আর খালি জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া সময়। ঋদ্ধি মেট্রো থেকে নেমে টোটো ধরে পৌঁছাল গ্রামের মোড় পর্যন্ত। বাকিটা হেঁটেই…
-
আলোকবিন্দু
অধ্যায় ১: আগন্তুক শমিত সেন কলকাতার মেঘলা আকাশ থেকে নেমে এল একেবারে বাংলার বুকের ভিতর—বীরভূমের এক অখ্যাত গ্রামে, নাম আঁধারপুকুর। এই গ্রামের নাম তার কানে আসে এক অদ্ভুত সূত্র ধরে, একটি বয়স্ক লোকের ফেসবুক মন্তব্যে লেখা ছিল: “যারা আলো দেখেছে, তারা ফেরেনি—শুধু আঁধারপুকুর জানে তাদের শেষ নিশ্বাস কবে থেমেছিল।” সাধারণত এই ধরণের রহস্যে আকৃষ্ট হয়…
-
রেললাইন নম্বর সাত
আদ্রিজা লাহা পর্ব ১: সাদা শাড়ির ছায়া রেললাইনটা আজও আছে। ছড়িয়ে থাকা লোহালক্কড়ের শরীর, ঘাসে ঢাকা পড়ে গেছে বেশিরভাগ অংশ। নাম তার “লাইন নম্বর সাত”—তবে এখন কেউ আর নাম নেয় না। ষ্টেশনের পুরনো স্টাফরা বলেন, “ওটা তো ভূতের জায়গা।” নতুনরা হাসে, পুরনোরাও হাসে, তবে একটু ঠোঁট চেপে। কারণ একটাই—প্রতি বছর, নির্দিষ্ট দিনে, একটা সাদা শাড়ির…
-
মৃত টেলিফোন
শুভদীপ দাস ১ কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর এক কোণে লুকিয়ে থাকা সেই বুথটা আজও দাঁড়িয়ে আছে—একটি মৃত সাক্ষীর মতো, শহরের কোলাহলের মাঝেও তার গায়ে নেমে আছে এক নিস্তব্ধতার আবরণ। রাস্তার পাশে এক পুরনো বাজারের পেছনে, ছোট্ট একটা গলিতে ঢুকলে চোখে পড়ে সেই ভাঙা টেলিফোন বুথটি—যার কাচ অর্ধভাঙা, ভিতরে ধুলো জমে ছাইয়ের মতো বসে আছে, আর তার…
-
পিঁপড়ের রাজ্য
সমীর বিশ্বাস ১ ক্যানিং স্টেশনে যখন ট্রেনটা দাঁড়াল, তখন ভোরবেলার কুয়াশা আর কাকডাকা নিস্তব্ধতা মিলেমিশে এক ধরনের অদ্ভুত নিঃসাড়তায় গ্রামটাকে ঢেকে রেখেছিল। ড. সায়ন্তন বসু ট্রেন থেকে নামার সময় চারপাশে তাকিয়ে বুঝে নিয়েছিল, এখানে শহরের কোনও ছোঁয়া নেই—রেললাইন পেরিয়েই শুরু হয়ে গেছে বুনো ঝোপঝাড়, মাটির রাস্তা আর গাছপালা দিয়ে ঘেরা এক অচেনা ভূখণ্ড। তার ব্যাগে…
-
পুতুলতলা
অতীন্দ্র সোম অধ্যায় ১: নতুন আলো নতুন জায়গায় সকালটা সবসময় অচেনা গন্ধে ভরা থাকে। রিয়া সেন যখন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ঘেরা ওই নিঃসঙ্গ গ্রামে পৌঁছালেন, তখন আকাশটা ছিল ঘোলাটে, যেন পুরোনো কাপড়ের মতো রঙচটা। রিয়া একটা পুরনো জিপ থেকে নামলেন—হাতে একটা কাঁধব্যাগ, চোখে চশমা, পরনে হালকা সাদা কুর্তা আর ধুলোমাখা স্যান্ডেল। চারপাশটা যেন নিঃশব্দে তাঁকে পরখ করছিল।…












