প্রেমের গল্প

  • একটি বিছানার গল্প

    একটি বিছানার গল্প

    তিথি সেন ১ অভ্যস্ত দুপুর যেন প্রতিদিন একইভাবে ফিরে আসে অর্পিতা আর অনির্বাণের জীবনে—একটি ছকে বাঁধা নিঃশব্দ যাপন। দুপুরটা শহরের অন্যান্য মধ্যবিত্ত দম্পতির মতোই নিস্তরঙ্গ; রান্নাঘর থেকে বের হওয়া মৃদু মসলার গন্ধ, দেয়ালে লেগে থাকা পুরনো ঘড়ির টিক টিক শব্দ, আর সামনের বারান্দা দিয়ে ঢুকে পড়া ক্লান্ত রোদের আলোয় অর্পিতা সেলাই করা কুশনের দিকে তাকিয়ে…

    read more

  • নীল পাহাড়ের ধারে

    নীল পাহাড়ের ধারে

    মেঘলা সেনগুপ্ত পর্ব ১: কুয়াশার ভেতর প্রথম দেখা দার্জিলিংয়ের সকালটা যে রকম হতে পারে—একটু কড়া চা, টিনের ছাদের উপর টুপটাপ জল, আর দূরে টাটকা ধোঁয়ার মতো ভেসে থাকা মেঘ—তৃষা ঠিক ওই রকম এক সকালে পাহাড়ে পৌঁছোল। রাতের ট্রেনের ক্লান্তি চোখে গড়িয়ে থাকলেও তার ভেতরে ছিল সেই পুরনো অস্থিরতা—নতুন জায়গা, নতুন আলো, নতুন মুখ। ব্যাকপ্যাকে দুটো…

    read more

  • আমার ফেলে আসা শ্রাবণ

    আমার ফেলে আসা শ্রাবণ

    সুবর্ণ দে এক কলকাতার আকাশটায় সকাল থেকেই একটা চাপা ধূসরতা ঝুলে ছিল। মাঝেমধ্যেই হালকা বাতাসে কুঁচকে ওঠা মেঘেরা যেন কারও চোখের জল লুকোচ্ছে, কেউ কাঁদবে কি না— সেই সংশয়ে মিশে থাকা। দিনভর অফিসের ব্যস্ততা পেরিয়ে সন্ধ্যাবেলায় যখন ঋভু বেরোল, তখন শহরটা যেন অপেক্ষা করছিল শ্রাবণের প্রথম ফোঁটার জন্য। রাস্তাঘাট একটু স্যাঁতসেঁতে, বাতাসে কাঁচা মাটির গন্ধ…

    read more

  • অদ্ভুত প্রেম

    অদ্ভুত প্রেম

    নয়ন বিশ্বাস ১ কলকাতার ঘুমন্ত ভোরে, যখন গলির কুকুরগুলোও নিস্তব্ধ হয়ে যায়, ঠিক তখনই অরুণাভর স্বপ্ন শুরু হয়। এক নির্জন নীলচে আলোর ঘেরাটোপে সে দাঁড়িয়ে থাকে, সামনে দূরের এক বটগাছ, যার পাতা ঝরে না—শুধু ধীরে ধীরে হাওয়ায় ভাসে। প্রতিবার স্বপ্নটা শুরু হয় সেই গাছের নিচে, আর সেই মেয়েটি ধীরে ধীরে আবছা হয়ে এগিয়ে আসে কুয়াশার…

    read more

  • প্রেমের ঢাক, পুজোর ধ্বনি

    প্রেমের ঢাক, পুজোর ধ্বনি

    ঈশানী রায়চৌধুরী পর্ব ১: আগমনী – ফিরে আসার দিন কলকাতার শরৎকাল মানেই একটা নির্দিষ্ট গন্ধ—পাতাঝরার নিচে ধুলো মাখানো রোদ, মহালয়ার ভোরে ভেসে আসা চণ্ডীপাঠ, আর বাতাসে মিশে থাকা প্রস্তুতির গুঞ্জন। বনেদি বাড়ির আঙিনায় সেই প্রস্তুতির চিহ্ন আরও স্পষ্ট, আরও চেনা—গেটে ঝোলানো আলোকমালার তার, উঠোনে বাঁধা ঢাক, আর ঠাকুরদালানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই পুরনো অশ্বত্থ গাছ,…

    read more

  • মুখোশের প্রেম

    মুখোশের প্রেম

    অর্কপ্রভ দাস এক শুভঙ্কর সেন নামটা অফিসে নতুন কেউ শোনে না, যতক্ষণ না কেউ রিপোর্টে তার নাম দেখে বা মিটিংয়ে প্রশ্ন করে—“শুভ, তুমি কি এনালাইসিসটা রেডি রেখেছো?” সহকর্মীদের মুখে “শুভ” নামটাও যেন একটা দায়সারা উচ্চারণ, আর শুভঙ্করের জীবন ঠিক ততটাই নিষ্প্রভ। দক্ষিণ কলকাতার একটা একতলা বাড়িতে বৃদ্ধ মা আর একটা বিড়াল নিয়ে তার একঘেয়ে রুটিন…

    read more

  • মেঘের গায়ে হেলান দিয়ে

    মেঘের গায়ে হেলান দিয়ে

    সায়ন্তনী ঘোষ পর্ব ১: ট্রেন যখন ছাড়ে, মন তখন কোথাও আটকে থাকে কলকাতা স্টেশনটা যেমন সব সময় গমগম করে, সেদিনও ঠিক তেমনই ব্যস্ত আর পাঁপড়ের মতো শব্দে ভরা ছিল। তবে আমাদের ভেতরে যেন কোনও শব্দ ছিল না। আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম দু’জন দু’দিকে মুখ করে — কেউ কিছু বলছে না, কেউ কিছু বলার চেষ্টাও করছে না।…

    read more

  • শরতের শরীরী চাঁদ

    শরতের শরীরী চাঁদ

    মৌপ্রিয়া ঘোষ ১ কলেজের সেমিনার লাইব্রেরি তখন অর্ধেক ফাঁকা, বিকেলের ঘোলাটে আলো জানালার কাঁচে ঠেকেছে। সবার চোখ বইয়ে, কিন্তু অনিন্দ্যের চোখ স্থির হয়ে গিয়েছিল ডানদিকের চতুর্থ সারিতে বসা মেয়েটির দিকে। মেয়েটি তার সামনে রাখা বইয়ে মুখ গুঁজে থাকলেও তার ঠোঁটে ভেসে উঠছিল এক অচেনা সুর—গলা নিচু, কিন্তু কানে লেগে থাকার মতো। “এই পথ যদি না…

    read more

  • বেডরুমের বাইরে

    বেডরুমের বাইরে

    কুশল রায় ১ শীতল বাতাসে ভেসে আসা ধোঁয়ার মতো কুয়াশার মধ্যে দার্জিলিং স্টেশনে ট্রেন থামতেই কাঁপতে কাঁপতে নামল অনির্বাণ ও মেহুলী। চারদিকে হালকা গুঞ্জন, মালবাহকদের হাঁকডাক, আর দূরে পাহাড়ে উঁকি দিয়ে থাকা বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে যেন একটা রঙহীন চিত্রকল্পে ঢুকে পড়েছে তারা। অনির্বাণের হাতে এক চামড়ার ট্রলি, অন্য হাতে মেহুলীর হাত। মেহুলী হালকা কমলা রঙের…

    read more

  • চুপচাপ তোমার শহর

    চুপচাপ তোমার শহর

    অনন্যা চক্রবর্তী পর্ব ১ : স্টেশন নম্বর সাত শীতের বিকেল নামছিল একরকম ধীর অনুতাপে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের চতুর্থ প্ল্যাটফর্মটা অকারণে নির্জন হয়ে উঠেছিল — যেন এই শহর, এই ট্র্যাক, এই হুইসেল, এই কুয়াশার ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছে কারও একান্ত চিঠির মতো কিছু, যা কেউ পড়ে না, তবুও লিখে যায়। ঈশিতা প্রথম দিন এই স্টেশনের এক…

    read more

  • চিঠির শহর

    চিঠির শহর

    ঈশিতা ঘোষ পর্ব ১ একটা অদেখা শহরের নাম কলেজ স্ট্রিটের শেষ মাথায় একটা ছোট কফির দোকান ছিল, যার নাম মনে নেই অর্ণবের। এমনকি তার বাইরের নামফলকটাও আজ মনে করার চেষ্টা করলে, চোখের সামনে শুধু ফ্যাকাশে হলদে রঙটা ভেসে ওঠে। তবু, সেই কফির গন্ধ, টেবিলের কাঠের দাগ, আর এককোণে বসে থাকা মেঘলার চোখের দিকে তাকিয়ে চুপ…

    read more

  • অপেক্ষা

    অপেক্ষা

    কুহেলি দত্ত ১ বসন্তের সেই দুপুরে, যখন পাতাঝরা শিমুল গাছের তলায় বাতাস হালকা রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছিল, মেঘলার জীবনে প্রথমবার ঢুকে পড়েছিল ঈশান। কলেজের নতুন ক্লাসরুমে যখন সবাই নিজেদের চেয়ারে বসে কেমন যেন অচেনা অস্বস্তিতে গুটিয়ে ছিল, তখন মেঘলার চোখ পড়ে এক ছেলেকে—লম্বা, শান্ত মুখ, চোখের ভেতরে কেমন এক গভীর দৃষ্টি, যেন বহু কথা জমে আছে…

    read more