Bangla
-
জলরঙের শহর
ঈশিতা সেনগুপ্ত তিয়াষা বসু’র স্টুডিওটা ছিল টালিগঞ্জের এক পুরনো বাড়ির ছাদে। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, ছায়াঘেরা ছাদ আর ভাঙাচোরা জানালার ফাঁক দিয়ে বিকেলের আলো এসে পড়ত তার ক্যানভাসে। একা থাকতে ভালোবাসত তিয়াষা। ওর তুলির আঁচড়ে জন্ম নিত একের পর এক নিঃসঙ্গ শহর, কখনো তীব্র বেদনায় ভরা মুখ, কখনো রোদেলা দুপুরে নীরব দাঁড়িয়ে থাকা বাড়ি।…
-
শেষ ট্রেন
গৌরকিশোর মণ্ডল কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তে সোনারপুর স্টেশন। রাত তখন প্রায় ১:৩০। স্টেশন প্রায় ফাঁকা, শুধু হাতে গোনা কয়েকজন যাত্রী শেষ লোকাল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছে। চারদিক নিস্তব্ধ। হালকা কুয়াশা মিশে রয়েছে বাতাসে, প্ল্যাটফর্মের আলোগুলো যেন তার মধ্য দিয়ে মৃদুভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে। শরৎ মল্লিক, একটি প্রাইভেট কোম্পানির ক্লার্ক, প্রত্যেকদিন রাতের শেষ ট্রেনেই বাড়ি ফেরেন। ওর বাড়ি…
-
লাল ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে
তিয়াষ মৈত্র কলকাতার শ্রাবণ মাস। আকাশে তখনো রোদ-ছায়ার খেলা। মেঘ জমে আবার হঠাৎ একফোঁটা করে নামে বৃষ্টি, যেন মন চাইলে কাঁদে আকাশ। শহর ধুয়ে যায় সেই বৃষ্টির ছোঁয়ায়, আর আমার মতো কিছু মানুষ ভিজে ভিজে খুঁজে ফেরে হারানো কোনো গল্পের পাতা। আমি সৌরভ, বয়স তিরিশ পেরিয়ে একত্রিশে পা রেখেছি কিছুদিন হলো। একটি বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ…
-
তৃষ্ণাঘাটের উপকথা
ভারতের উত্তরবঙ্গের শেষপ্রান্তে, শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে এক নিভৃত পাহাড়ি গ্রাম — তৃষ্ণাঘাট। নামটি শুনেই বোঝা যায়, একসময় এখানে পানীয় জলের অভাব ছিল। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এই নাম এসেছে এখানকার একটি পুরনো প্রবাদ থেকে — “তৃষ্ণার শেষ আশ্রয়ঘাট”। কারণ, বহু শতাব্দী আগে এখানকার এক প্রাকৃতিক ঝর্ণা নাকি প্রাণ বাঁচিয়েছিল মহামারিতে আক্রান্ত একটি গোটা…
-
পাহাড়ি প্রতিচ্ছবি
রিমা ঘোষ আগমন যখন নিঃশব্দে সন্ধ্যায় ঢলে পড়ে, তখন সেই নিঃশব্দতাকে যেন আরও ঘন করে আনে পাহাড় থেকে নেমে আসা কুয়াশা। হেমন্তের ঠান্ডা হাওয়া গায়ে এসে লাগে ধারালো সুতোয় বাঁধা ছুরি’র মতো। সেই কুয়াশার ভিতর দিয়েই ধীরে ধীরে উঠতে থাকে একটি জিপ। ভেতরে বসে আছে তানিশা সেন—কলকাতা থেকে আসা এক তরুণী লেখিকা, যার ঝুলিতে আছে…
-
মাটির আখ্যান
সায়ন্তনী রায় বাঁকুড়ার খড়গপুর গ্রামে ভোরবেলাটা যেমন হয়—গঙ্গাজলঘাট থেকে ঘোরা শুরু করে হালকা কুয়াশায় ঢাকা মাটির রাস্তা, পাখির ডাকে ভাঙা ঘুম, আর দূরের কোনো বাড়ি থেকে ভেসে আসা রেডিওর রবীন্দ্রসঙ্গীত। এই সবের মাঝখানে, বুড়ো হরিরাম গাঁয়ের এক কোণে নিজের কাজে ব্যস্ত। তিনি পোড়া মাটির শিল্পী—তাঁর হাতেই প্রাণ পায় ঘোড়া, হাতি, নর্তকী, কৃষ্ণের বাঁশি, আর গম্ভীরা।…
-
লাল বাসের ডায়েরি
সাদমান হাসান তুর্য আমি একটি বাস। না, স্রেফ যান্ত্রিক এক বস্তু হিসেবে নয়, আমি আত্মাসম্পন্ন, অনুভব-সক্ষম এক যাত্রীভরা জীবনরথ। আমার জন্ম হয়েছিল ২০০৩ সালের এক গরম দুপুরে, নারায়ণগঞ্জের একটি ছোট্ট কিন্তু ব্যস্ত কারখানায়। তখন চারদিকে শিল্পকলার এক উৎসব চলছিল। মিস্ত্রির হাতের করাঘাতে গড়ে উঠছিল আমার শরীর, আমার হাড়-গোড়, আমার চাকার পাটাতন। আমি ছিলাম “মেট্রো পরিবহন”…
-
চিরন্তন কলকাতা
Arindam Mukherjee সকালে সাতটা নাগাদ কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় হাজির হন বিমলবাবু। মহাবোধি সোসাইটির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি চা খাচ্ছেন। দোকানদার চিনে ফেলল—”আরে, বিমলদা! আবার বই খুঁজতে নাকি এলেন?” বিমলবাবু মুচকি হেসে বললেন, “এই বইপাড়াটার মধ্যে একটা ঘোর আছে হে। আমি যখন প্রেসিডেন্সিতে পড়তাম, তখন রোজ এখানে আসতাম। সেই ঘোরটা এখনও যায়নি।” তিনি আজ খুঁজছেন একটা পুরনো…








