সামাজিক গল্প

  • চিঠির বাইরেটা

    চিঠির বাইরেটা

    মেঘলা দাশগুপ্ত পর্ব ১ কলকাতার গরমটা জুনে এসে যেভাবে গায়ে লেগে থাকে, মেঘলার কাছে সেটা অস্বস্তিকর নয়, বরং একধরনের আশ্বাসের মতো। সে ভালোবাসে বিকেলের ছায়া যেভাবে জানালার পাল্লা ফুঁড়ে ঘরে ঢোকে, সেই রকম নিঃশব্দ আলো, যেটা কারও চোখে পড়ে না, কিন্তু মনটা একটু একটু করে ধুয়ে দেয়। এই বাড়িটা সে ভাড়া নিয়েছে এক মাসের জন্য—লেখালেখির…

    read more

  • স্বপ্নের আলোয় শিউলি

    স্বপ্নের আলোয় শিউলি

    মৌসুমী ধর চক্রবর্তী ১ শিউলির বয়স এখন পঁয়তাল্লিশ। একটা সরকারি প্রাথমিক স্কুলে পড়ান তিনি। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার প্রত্যন্ত এক গ্রামে ওঁর বসবাস—চারপাশে ইটভাটার ধোঁয়া, জলাভূমির নিঃশব্দতা, আর শালবনের ঘন ছায়ায় ঘেরা জনপদ। এখানকার রাস্তাগুলো বর্ষায় কাদায় ভরে যায়, গ্রীষ্মে ধুলো উড়তে থাকে, আর শীতে শীতল হাওয়া হাড়ে হাড়ে কাঁপিয়ে দেয়। অথচ এই সব কিছুর মাঝেও…

    read more

  • ছিন্নমূল

    ছিন্নমূল

    দিব্যেন্দু দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালের কলকাতা। শহরটা তখন একটা আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক উত্তাপ, ধর্মীয় বিদ্বেষ আর ক্ষমতার খেলায় শহরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে উঠছে এক অদৃশ্য আগুন। ছোটবেলার শহর, কলেজস্ট্রিটের মোড় থেকে শ্যামবাজার, বাঘবাজার থেকে চিৎপুর – সবকিছু ধীরে ধীরে অপরিচিত হয়ে উঠছে। অভয়বাবু তখনও বুঝে উঠতে পারেননি যে এই উত্তাল সময় কেবল শহরটাকেই বদলে…

    read more

  • আলোছায়া

    আলোছায়া

    অরুণিমা দাস শহরের উত্তাপে ভরা সেই ছোট্ট রাস্তাটি যেন আজ একটু অন্যরকম লাগছিল। সূর্য যখন অর্ধেক আকাশে উঠেছে, তখনও গলির পাশে একদম শান্ত এবং একাকী এক পরিবেশ বিরাজ করছিল। ধোঁয়াশা যেন ধীরে ধীরে গলির পেছনে মিশে যাচ্ছিল আর বাতাসে একটা হালকা আর্দ্রতা। মেহেদী পাড়া, কলকাতার একটি পুরনো ও ক্ষীণ পাড়া। পাড়ার অনেকগুলো ঘর পাকা নয়,…

    read more

  • জড়ি: মাটির ভাষা

    জড়ি: মাটির ভাষা

    মৃন্ময় ধারা শালবনির ছায়া রাঙা মাটির উপরে সকাল নামে ঢুলুঢুলু আলোয়। সাল, শিমুল, আর পালাশের ছায়া ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে ধুলোবালির মাঠে। বাঁকুড়ার এই গ্রামটার নাম শালবনি। কেউ চেনে না, কেউ জানতে চায় না। সরকারি ম্যাপে ছোট্ট এক বিন্দু, কিন্তু হরিধনের চোখে এই গোটা পৃথিবীটাই হলো শালবনি। সে এখানেই জন্মেছে, এখানেই ধুলো মেখে বড়ো হয়েছে।…

    read more