রহস্য গল্প
-
গোপন সিন্দুকের ছায়া
অরিন্দম ঘোষ পর্ব ১ : প্রথম সূত্র কলকাতার গরম বিকেলটা অস্বাভাবিকভাবে নিস্তব্ধ ছিল। কলেজ স্ট্রিটের বুকশপগুলোতে ভিড় কমে আসছিল, বই হাতে নিয়ে দু-চারজন ছাত্র পায়ে টেনে হাঁটছিল। রক্তিম সেনের চোখ তীক্ষ্ণ, তার হাতের পাতায় ধরা এক মলিন খাতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো আর্কাইভ ঘেঁটে এইমাত্র সে খাতাটা পেয়েছে—ভুলে যাওয়া এক জমিদারবাড়ির দলিল। হলুদ হয়ে যাওয়া কাগজ, তার…
-
ট্রাফিক সিগন্যালের মেয়ে
সৌমিক হালদার এক কলকাতার শহরটা যেন প্রতিদিনই নিজের মতো এক নতুন রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ততা, রাস্তায় গাড়ির হর্ণ, ফুটপাতের দোকানদারদের হাঁকডাক, হাওড়া-ব্রিজ থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত প্রতিটি রাস্তায় শহরের নিজস্ব ছন্দ ছড়িয়ে থাকে। এমনই এক ব্যস্ত মোড়, যেখানে চারপাশের গাড়ির ভিড়, ঠেলাগাড়ির ধাক্কাধাক্কি, ট্রাফিক পুলিশের বাঁশির শব্দ আর মানুষের ভিড়…
-
শহরের হারানো মুখ
প্রসুন পাল অনিকেত দে, বয়স আঠাশ, পেশায় ফটোজার্নালিস্ট, কিন্তু তার জীবন অনেকটাই শহরের অলি-গলিতে ছড়িয়ে থাকা কোলাহল আর নীরবতার মাঝে আটকে থাকে। প্রতিদিন সকালে ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়ে সে, আর রাতের বেলায় অনলাইনে বসে নিজের তোলা ছবি সাজায়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে। সেদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাত তখন এগারোটা বাজে, অনিকেত ল্যাপটপ খুলে ফেসবুক…
-
কালীকূপের রহস্য
সন্দীপন বিশ্বাস অন্ধকারে মোড়া সেই গ্রামে দীপঙ্কর সেনের আগমন যেন এক অদ্ভুত পূর্বাভাসের মতো ছিল। কলকাতার ইতিহাসবিদ ও লেখক হিসেবে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছিল, আর তাই গবেষণার তাগিদেই সে এই দূরবর্তী গ্রামে আসে। গ্রামের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা কালী মন্দিরের পাশে কূপটির কথা সে অনেক আগে থেকেই শুনে এসেছে—লোকমুখে কিংবদন্তির মতো ছড়িয়ে থাকা গল্প যে, রাত…
-
ভার্চুয়াল মৃত্যুর ফাঁদ
তমাল দাস ১ কলকাতা, ২০২৫ সালের গরমে দম বন্ধ করা এক সন্ধ্যা। সল্টলেকের এক সরু গলির ভেতরে সাজানো আধুনিক গেমিং ক্যাফেতে তখন ভিড় জমেছে একদল কিশোরের। বাহারি নিয়ন আলো, হেডফোন আর ভিআর হেডসেটের ভেতরে ডুবে থাকা তাদের চেহারায় যেন বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই। ওই ভিড়ের মধ্যেই বসে ছিল অর্ণব, বয়স মাত্র ষোলো। হাত…
-
সময়ের ডাকপিয়ন
ঋষভ সরকার এক ২০৭৫ সালের কলকাতা তখন একেবারে নতুন রূপে দাঁড়িয়ে আছে। গঙ্গার তীর ঘেঁষে উঁচু উঁচু টাওয়ার, আকাশপথে নীরব ভেসে চলা ম্যাগনেটিক ট্রেন, আর রাস্তায় স্বয়ংচালিত যানবাহনের মৃদু গুঞ্জন মিলে শহরকে দিয়েছে ভবিষ্যতের স্বাদ। রাস্তার দুই পাশে আলোকিত বিলবোর্ডে ভেসে আসে হোলোগ্রাফিক বিজ্ঞাপন—কখনও তাজা ফল বিক্রি করছে, কখনও পুরনো বাংলা সিনেমার ডিজিটাল রিমাস্টার রিলিজের…
-
চন্দ্রালোকের আড়ালে
দেবিকা দাশগুপ্ত ১ গ্রামের প্রাচীন মন্দিরটি যেন সময়ের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে, শত বছরের নীরবতা আর শ্যাওলাধরা দেওয়ালে জমে থাকা ইতিহাস নিয়ে। চারপাশে কেবল বন আর পুরোনো বটগাছের ছায়া, গা ছমছমে নৈঃশব্দ্যকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে। পূর্ণিমার চাঁদ আকাশের মাঝে যেন এক অলৌকিক প্রদীপ, তার রুপালি আলোয় মন্দিরের ভাঙা ইট, পাথরের সিঁড়ি আর ভেতরের শিবলিঙ্গ…
-
শহরের নীল মুখোশ
সৈকত রায় ১ কলকাতার শহরতলির অন্ধকার গলিপথ পেরিয়ে, এলগিন রোডের নামী এক আর্ট গ্যালারির কাচের দরজা ভাঙার শব্দে প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিল আশেপাশের কেয়ারটেকার আর রাতের প্রহরীরা। সেদিন রাতটা ছিল আষাঢ় মাসের—অবিরাম বৃষ্টির ধারা শহরকে ভিজিয়ে রেখেছিল অদ্ভুত এক নৈঃশব্দ্যে, যেখানে কেবল বৃষ্টির টুপটাপ শব্দই রাতের শূন্যতাকে পূর্ণ করছিল। রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ গ্যালারির সাইরেন হঠাৎ…
-
চিপ-ইনসাইড
সম্রাট দত্ত ১ সকালের কলকাতা শহরটা যেন নিজের মতো করে ব্যস্ত। ধর্মতলার দিকে গাড়ির হর্ন, ফুটপাথের দোকানদারের হাঁকডাক, চায়ের দোকানে ভিড়—সব মিলিয়ে এক চেনা শব্দমালা। কিন্তু প্রেস ক্লাবের ভেতরে আজ ভিন্ন এক উন্মাদনা। বড় হলরুমে সারি সারি চেয়ার, সামনের টেবিলে সাজানো মাইক্রোফোন আর ঝকঝকে বোতলের পাশে ফাইলের স্তূপ। মিডিয়ার লোকজন, ক্যামেরাম্যান, ফটোগ্রাফার, সাংবাদিক—সবাই অপেক্ষায়। কারণ…
-
ফিসফিসে কবরস্থান
ঋতা মিত্র পর্ব ১: কাঁচের নাম বিকেলের আলো যেদিন জঙ্গলের কিনারায় ঢালু হয়ে পড়ে, সেদিনই নীলার ক্যামেরা সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকে; যেন আলোটা সরে যাওয়ার আগেই তা ধরে ফেলতে চায়। শহরের উত্তর-পশ্চিমে, পুরনো রেললাইনের পাশে, গলানো টার আর ঘাসের গন্ধমেশানো একটা ফাঁকা জমিতে দাঁড়িয়ে ছিল কবরস্থানটা—চুনসুরকির মলিন রঙ, বুজে থাকা লোহার ফটক, আর তার উপর…
-
ড্রোন খুনি
সৃজন বসু এক পার্ক স্ট্রিটের রাত মানেই আলো, কোলাহল, গাড়ির হর্ন আর মানুষের হাসি-আড্ডায় ভরা এক জীবন্ত ছবি। সেদিনও ব্যতিক্রম ছিল না। শীতের শুরুতে রাস্তায় রঙিন লাইটের মালা, বিদেশি আর দেশি সুরের মিশ্রণ, আর খাবারের গন্ধে ভরে উঠেছিল বাতাস। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ‘দ্য ব্লু অর্কিড’ নামের এক বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় ডিনারের ভিড় ঠাসা। মোটা মোটা…
-
রহস্যময় অশরীরী কণ্ঠ
অর্জুন দে ১ গ্রামের প্রান্তে অবস্থিত খোশরুরাজ সরকারের পুরনো বাড়িটি বছরের পর বছর আগের সেই ভাঙাচোরা মেঝে আর ছাদের গাছের ফাঁকফোকর দিয়েই তার কাহিনী বলে চলে। আজও বাড়ির দেয়ালে সোনালী দিনের স্মৃতিগুলো উজ্জ্বল—তবে এখন যেন ম্লান হয়ে এসেছে সময়ের ধুলোয়। খোশরুরাজ, যে এককালে গ্রামের মঞ্চের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী ছিলেন, এখন নির্জনতার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন।…












