কল্পবিজ্ঞান
-
সূর্যবন্দী
শুভ্রজিত ঘোষাল অধ্যায় ১ – সূর্যের ডাক ২১শ শতকের শেষ দিকে, পৃথিবীর মহাকাশ পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে সূর্যের ক্ষুদ্রতম পরিবর্তনও শনাক্ত করা সম্ভব। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের (ISRC) কলকাতা শাখায় সেই রাতে সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। রাত দুইটা পেরিয়ে গেছে, পর্যবেক্ষণ ঘরে শুধুই যন্ত্রের মৃদু শব্দ, আর কম্পিউটার স্ক্রিনে অনবরত ভেসে আসা ডেটা।…
-
সময়সংক্রান্তি
অর্কপ্রভ মুখার্জী ঘন বর্ষার রাতে, দক্ষিণ কলকাতার বেহালার উপকণ্ঠে নিজের ব্যক্তিগত ল্যাবরেটরির এক কোণে বসে ড. অনিরুদ্ধ সেন চুপচাপ তাকিয়ে ছিল ছেলের শেষ ব্যবহৃত খেলনা ট্রেনটার দিকে। ট্রেনটা থেমে আছে ট্র্যাকের মাঝখানে, ব্যাটারির অভাবে নয়, বরং সময়ের অভাবে। সেই ট্রেনটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার ভিতরে এক ছায়া যেন থিতু হয়ে গেছে—সেই ছায়া, যেটা সে…
-
ভৈরব তন্ত্র
১ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গা-ছমছমে সেই পুরোনো গবেষণা রুমটা দিনের আলোতেও যেন কিছুটা অন্ধকারময়। তারই এক কোণে বসে রেখা সেনগুপ্ত চোখ গুঁজে পড়ছিল পুরনো এক সংস্কৃত পাণ্ডুলিপি—জীর্ণ, পোড়া পাতাগুলো যেন শতাব্দী প্রাচীন রহস্যের সাক্ষ্য বহন করছে। বেশ কিছুদিন ধরেই সে খুঁজছিল এমন এক প্রাচীন তন্ত্রগ্রন্থ যা তন্ত্রশাস্ত্রের অপ্রকাশিত ধারার অন্তর্ভুক্ত। লাইব্রেরির পুরাতন ক্যাটালগে হঠাৎ করেই তার…
-
মরীচিকার শহর
অভিরূপ মুখার্জি চোখ খুলতেই আরুণাভ টের পেল কিছু একটা অস্বাভাবিক। জানালার ফাঁক দিয়ে সোনালি আলো ঢুকছে, কিন্তু সেই আলোয় একধরনের ধূসরতা মিশে আছে, যেন রোদ নয়—কোনো স্ক্রিনের আলো। বিছানায় বসে চারপাশ তাকাল সে—ঘরটা পরিষ্কার, ছিমছাম, কিন্তু যেন গতকালের ঘর নয়। দেয়ালে যে রঙটা ছিল সবুজাভ, আজ সেটা হালকা নীল; জানালার বাইরে যে গাছটা ছিল, সেটা…
-
কৃষ্ণগহ্বরের কাহিনি
সায়ন পাল ১ হিমালয়ের পাথুরে বুক চিরে গড়ে ওঠা ‘জাতীয় মহাকর্ষ গবেষণা কেন্দ্র’ ছিল এক নিঃসঙ্গ চিহ্ন—যেন সভ্যতা থেকে বহু দূরের এক গোপন সভ্যতার সূচনা। ভারতের বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প—প্রকৃতির গভীরে প্রবেশ করে এমন কিছু আবিষ্কার করার চেষ্টা, যা শুধু তত্ত্বেই সম্ভব ছিল এতদিন। এই কেন্দ্রের নেপথ্যে ছিলেন ডঃ দীপ্তনারায়ণ মুখার্জী, একজন…
-
ক্লোনড
শুভময় দত্ত গভীর রাতে শহরের অন্ধকার অলিগলি নিঃস্তব্ধ, কিন্তু শহরতলির এক গোপন বায়োটেক ল্যাবরেটরিতে তখন প্রবল আলো জ্বলছে। ডঃ প্রণব সেনের চোখজোড়া ক্লান্ত, কিন্তু সেই ক্লান্তির মাঝে এক অদ্ভুত উন্মাদনা লুকিয়ে আছে। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন কাঁচঘেরা এক জীবাণুমুক্ত ঘরের সামনে, যেখানে একটি নগ্ন দেহ চুপচাপ ঘুমিয়ে আছে একটি স্বচ্ছ কাচের ক্যাপসুলের ভিতরে। তার গায়ের ত্বকে…
-
চন্দ্ররহস্য
সম্বিত দাশগুপ্ত অধ্যায় ১: সংকেত চাঁদের প্রান্তরের সেই গভীর নিশুতি ভেদ করে যখন ‘অরোরা-১’ গবেষণা কেন্দ্রের অ্যান্টেনা প্রথমবারের মতো এক অদ্ভুত কম্পনধর্মী সংকেত ধরা পড়ল, তখন কেউই তা গুরুত্ব দিতে চায়নি। মহাকাশে এমন ইন্টারফেরেন্স হরহামেশাই দেখা যায় — সৌরঝড়, উপগ্রহের প্রতিধ্বনি, কিংবা অজানা মহাজাগতিক কণার ছোটাছুটি। কিন্তু ড. অনিরুদ্ধ সেনের অভিজ্ঞ চোখ বুঝে ফেলল, এতে…
-
কার্বন হান্টারস
নন্দিনী পাল ১ বাতাসটা ভারি ছিল, যেন চোখের পাতায়ও ধুলো জমেছে। ২১৮০ সালের কলকাতা, এখন আর কলকাতা নেই—নাম পাল্টে হয়েছে “এয়ারজোন-৯”। শহরের আকাশে সবুজ নেই, কেবল ধূসর ও গাঢ় বাদামি রঙের এক বিষাক্ত স্তর যা দিনের আলোকেও ম্লান করে দেয়। মানুষ হাঁটে ফিল্টার মাস্কে মুখ ঢেকে, শিশুদের কৃত্রিম ফুসফুসে জন্ম দিতে হয়। আর সেই অদ্ভুত…
-
জীবাণুবাজ
অসিত চক্রবর্তী ১ সকালের আলো জানালার পর্দা ছুঁয়ে যখন ঘরে ঢুকল, তখন ঘুম ভাঙল রিমা দাশের। মাথাটা ভার লাগছিল, ঠিক যেন সারারাত ঘুম হয়নি। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা বলছে সে ন’ঘণ্টা ঘুমিয়েছে। বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে আচমকা সে বুঝতে পারল—কিছু একটা নেই। কিছু একটা অদৃশ্য, অথচ খুব জরুরি। সেই অনুভূতিটা একেবারে হাড়ে হাড়ে টের পেল।…
-
প্যারালাল স্ক্রিন
শ্রেয়সী বসাক অধ্যায় ১: লগইন লবিতে প্রথম দেখা RealM-EVE। একটা নাম, একটা দুনিয়া, একটা ছায়া বাস্তবতা। জয় ততক্ষণে দশ ঘণ্টার কোডিং শিফট শেষ করে, মাথার ব্যথাটা উপেক্ষা করে নিজের মডিফায়েড VR হেলমেটটা মাথায় চাপিয়ে নিয়েছে। ওর জীবনটা গত কয়েক বছরে রুটিনের মধ্যে আটকে পড়েছে—ডে জব ইন IT, নাইট জব ইন গেমিং। RealM-EVE তার কাছে শুধু…
-
তারাদের গৃহিণী
পৃথিবী তার চেনা আলোয় জেগে ছিল সেই ভোরে। কলকাতার আকাশটা কেমন গাঢ় ছায়ায় মোড়া, আর বাসের হর্ণ, চায়ের দোকানের কাশা কাশা আওয়াজ—সবকিছু যেন অরুনিমার শরীরে গেঁথে ছিল সেদিন। ওর চোখে তখন ব্যাগভরা কাগজ, অ্যাস্ট্রো-বায়োলজির রিপোর্ট, এক জোড়া ঘুমহীন চোখ, আর একটা রুমাল—যেটা ঈরা বানিয়ে দিয়েছিল ফেলে যাওয়ার আগের রাতে। অরুনিমা জানত, এই যাত্রা তার জীবনের…
-
সময়ের ডাকঘর
ঈশানী ভট্টাচার্য কলকাতার সিঁথি অঞ্চলের ভেতরে, মরা একটি গলির শেষে দাঁড়িয়ে আছে এক পুরনো লালবাতিওয়ালা দালান—সাইনবোর্ডে লেখা “বেলঘর ডাকঘর – স্থাপিত ১৮৯৩“। দরজার কপাটে জং ধরেছে, জানালায় জালার ফাঁকে ঘুমিয়ে আছে ধুলো। কেউ আর এখানে আসে না। কেউ বলে, ডাকঘর উঠে গেছে। কেউ বলে, ওটা ভূতের জায়গা। তবে অভীক বিশ্বাস করে না ভূতের গল্প। ইতিহাস…












