কল্পবিজ্ঞান
-
মঙ্গলগ্রহের মেয়ে
প্ৰদীপ্ত মজুমদার অর্ণব সেনের জীবনে সেই মুহূর্তটা ছিল এমন এক অভিজ্ঞতা, যা তাঁর সমস্ত শৈশবের স্বপ্ন, যুবক বয়সের ত্যাগ আর মহাকাশযাত্রার অগণিত প্রশিক্ষণকে এক অবর্ণনীয় বাস্তবতায় রূপ দিল। পৃথিবী থেকে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে, অগণিত মানুষের চোখের বাইরে তিনি প্রথমবারের মতো মঙ্গলের মাটিতে পা রাখলেন। চারপাশে বিস্তীর্ণ লাল মরুভূমি, যার সীমা যেন দিগন্তকে ছুঁয়ে গিয়ে…
-
সূর্যহীন পৃথিবী
অতনু রক্ষিত এক ভোরবেলা পৃথিবীকে ঘিরে যে আলো জন্ম নিত প্রতিদিন, সেই আলো যেন আচমকা হারিয়ে গেল। সময়টা ছিলো একেবারেই স্বাভাবিক—পাখিদের ডাক, মানুষের জেগে ওঠা, শিশুরা স্কুলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আর কর্মজীবীরা যেমনভাবে প্রতিদিন ব্যস্ততার জন্য প্রস্তুত হয়, সেই ছন্দেই চলছিল সবকিছু। কিন্তু ঠিক সূর্য ওঠার মুহূর্তে আকাশ যেন গভীর অন্ধকারে ডুবে গেল। প্রথমে মানুষ ভেবেছিল…
-
চোখের ভেতর মহাবিশ্ব
সন্দীপ পাল ১ অয়ন তখন সবে সতেরোর কিশোর, ক্লাস টেনের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে কিছুদিন অবসর কাটাচ্ছে। তার সবচেয়ে বড় অভ্যাস ছিল রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা, কারণ অন্ধকার ভরা আকাশে ছড়িয়ে থাকা নক্ষত্রগুলো যেন তাকে এক অদ্ভুত শান্তি এনে দিত। সে জানালার পাশে বসে থাকত, অনেক সময় ডায়েরি খুলে নোট লিখত—কোন নক্ষত্র কোন দিকে…
-
ক্লোন নদীর রহস্য
সৌরভ মুখোপাধ্যায় পর্ব ১: পদ্মার তীরে ল্যাবরেটরি পদ্মার জল আজও যেমন তীব্র স্রোত নিয়ে বয়ে যায়, তেমনি তার বুকের উপর ভেসে আছে এক বিশাল ধাতব স্থাপনা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় নদীর বুকে যেন ভেসে উঠেছে কোনও অচেনা দ্বীপ, কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায় সেটি প্রকৃতির নয়, মানুষের তৈরি। নাম—“মেমরি রিসার্চ সেন্টার”, সংক্ষেপে এমআরসি। বিশাল…
-
চাঁদের সোনার খনি
রণজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় পর্ব ১ : যাত্রার ডাক অভিজিৎ গ্রামের মাটির উঠোনে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। শরৎকালের আকাশ—নীল, স্বচ্ছ, তারার মেলা সাজিয়ে রেখেছে। চাঁদটা যেন হাতের নাগালে ঝুলে আছে, অথচ কত দূরে, কত অচেনা। জীবনে কখনও ভাবে নি যে তাকে ওখানে যেতে হবে। সে ছিল একেবারেই সাধারণ ছেলে—পিতা ছিলেন ক্ষেতমজুর, মা চাষের ধান বেঁধে ঘরে…
-
রোবট কবি
মৌমিতা রায় এক ড. অরিন্দম মুখার্জি ছিলেন কলকাতার এক প্রখ্যাত রোবোটিক্স বিজ্ঞানী। বয়স তাঁর মাঝ চল্লিশে হলেও, জীবনের সবটুকু সময় তিনি ল্যাবরেটরির দেয়াল আর অসংখ্য তার, সার্কিট, স্ক্রিনের মধ্যে ডুবে কাটিয়েছেন। বন্ধু-বান্ধব, সাহিত্য, সঙ্গীত—এসব থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিলেন তিনি। যুক্তির খোলস আর যান্ত্রিক অনুশাসনের ভেতরেই তাঁর জীবন বন্দি হয়ে গিয়েছিল। ছোটবেলায় কবিতা লেখার একটা…
-
তারার ওপারে
অর্ণব দত্ত পর্ব ১: অপরিচিত সংকেত রাত তখন গভীর। সল্টলেকের গবেষণাগারের কাচঘেরা জানলার বাইরে দূরের হাইওয়ে আলো ঝলমল করছে। চারদিকে নির্জনতা, কেবলমাত্র মেশিনের নিরবচ্ছিন্ন গুঞ্জন আর মাঝে মাঝে হাওয়ার ফিসফিস শব্দ। ডঃ অদিতি মুখার্জি কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বসেছিলেন, চোখে লালচে ক্লান্তি। কয়েক মাস ধরে যে পরীক্ষাটি চালাচ্ছেন, সেটি মূলত ছিল রেডিও ওয়েভ শনাক্তকরণ। পৃথিবীর…
-
অদৃশ্য নগরী
দেবপ্রতিম সাহা কুহেলি দত্তের প্রতিদিনের কাজ ছিল একঘেয়ে অথচ ভীষণ মনোযোগের—স্যাটেলাইট ডেটার অগণিত ছবি বিশ্লেষণ করা। দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গল অঞ্চলের মানচিত্র সে তৈরি করছিল তার গবেষণার জন্য, বিষয় ছিল ভূ-পরিবেশ পরিবর্তনের প্রভাব। দিনের পর দিন চোখের সামনে আসছিল নদীর প্রবাহ বদলানো, বনাঞ্চলের সবুজ কমে যাওয়া কিংবা গ্রামের বিস্তার। কিন্তু সেদিন রাতের স্যাটেলাইট ছবিতে তার চোখ হঠাৎ…
-
শেষ গ্রন্থাগার
আত্মদীপা সেন পর্ব ১ – আগমন শীতের শেষ দিকের হাওয়া নামছিল পাহাড় থেকে। সন্ধেবেলা দার্জিলিংয়ের ধারে মেঘলা সেন ছোট্ট একটা লোকাল বাসে চেপে নামল জনশূন্য রাস্তায়। চারদিক জুড়ে তখন কুয়াশার ধোঁয়া, যেন পাহাড়টা নিজের বুকের ভেতর পৃথিবীকে গিলে নিতে চাইছে। তার হাতে একটা পুরনো নোটবুক, ভেতরে টুকে রাখা এক রহস্যময় ঠিকানা—“শেষ গ্রন্থাগার, রংটং পাহাড়তলি।” মেঘলা…
-
সমুদ্রের নিচে সূর্য
নিশীথ চক্রবর্তী সুন্দরবনের উপকূল সবসময়ই রহস্যে ঘেরা, অর্ধেক জল আর অর্ধেক জঙ্গলের মিলিত রূপ যেন সময়ের সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা এক অদ্ভুত ভূমি। ভোরবেলা আকাশ যখন ধীরে ধীরে আলোকিত হয়, তখন কাদা মাটির গন্ধ আর লবণাক্ত বাতাস জেলেদের নাকে এসে লাগে, নদীর স্রোত যেন ডাকে নতুন দিনের শিকারে নামতে। রফিকুল ইসলাম সেই দিনও স্বাভাবিক নিয়মে নিজের…
-
চাঁদের বাজার
দেবাশিস রায় ২১ শতাব্দীর শেষ দিকে কলকাতা শহর অনেক বদলে গেছে। হাওড়া ব্রিজের উপর দিয়ে ভেসে চলা চৌম্বক ট্রেন, আকাশছোঁয়া কাচের অট্টালিকা, আর চারপাশে ভেসে থাকা নীয়ন আলোয় ঢাকা রাস্তা—সব মিলিয়ে পুরনো কলকাতা যেন একেবারেই অন্য রূপ নিয়েছে। কিন্তু এই শহরের ভিড়ের মাঝেই এক কোণে আছে দত্ত পরিবার—একেবারে সাধারণ মধ্যবিত্ত সংসার। বাবা অরিন্দম দত্ত পেশায়…
-
সময়ের ডাকপিয়ন
ঋষভ সরকার এক ২০৭৫ সালের কলকাতা তখন একেবারে নতুন রূপে দাঁড়িয়ে আছে। গঙ্গার তীর ঘেঁষে উঁচু উঁচু টাওয়ার, আকাশপথে নীরব ভেসে চলা ম্যাগনেটিক ট্রেন, আর রাস্তায় স্বয়ংচালিত যানবাহনের মৃদু গুঞ্জন মিলে শহরকে দিয়েছে ভবিষ্যতের স্বাদ। রাস্তার দুই পাশে আলোকিত বিলবোর্ডে ভেসে আসে হোলোগ্রাফিক বিজ্ঞাপন—কখনও তাজা ফল বিক্রি করছে, কখনও পুরনো বাংলা সিনেমার ডিজিটাল রিমাস্টার রিলিজের…












