অনুপ্রেরণামূলক গল্প

  • লাল বেলুনের শহর

    লাল বেলুনের শহর

    অনিরুদ্ধ কর অধ্যায় ১ হাওড়ার রাজ্য সরকারি হাসপাতালের শিশু-ক্যান্সার ওয়ার্ডে সকালটা শুরু হয় নীরব কান্নার ভেতর দিয়ে, কিন্তু সেই নীরবতার মাঝে কিছু একটা যেন রোজ ভিন্নভাবে গর্জে ওঠে—যেটা অন্য বাচ্চারা কাঁদে বলে নয়, বরং কেউ একজন সেখানে হেসে ওঠে বলে। বিছানার এক কোণে, জানলার গরাদ পেরিয়ে আলোর ফালি যে মেয়েটার মুখে এসে পড়ে, তার নাম…

    read more

  • পূর্ব পাকিস্তানে এক মহিলার গোপন রেডিও

    পূর্ব পাকিস্তানে এক মহিলার গোপন রেডিও

    রুবিনা মাহমুদ ১ রাতটা ছিল অদ্ভুত শান্ত। এমন শান্ত যে খুলনার বাতাসেও যেন শব্দ ঢুকতে সাহস পায় না। কিন্তু এই নিশুতি রাতেই শব্দ জন্ম নিচ্ছে, জন্ম নিচ্ছে এমন এক তরঙ্গ, যা ভবিষ্যতের কান্না বা বিজয়—দুটোর একটিকে জাগিয়ে তুলবে। রওশন আরা জানালার পর্দাটা সরিয়ে একবার বাইরে তাকালেন। তামাটে চাঁদের আলোয় গাছের ছায়া লম্বা হয়ে উঠেছে। একটা…

    read more

  • চায়ের কাপের ফাঁকে

    চায়ের কাপের ফাঁকে

    সৃজন ঘোষ পর্ব ১ — শিবু কাকার দোকান ওরা দুজন দুটো আলাদা অফিসে কাজ করে। আলাদা ভবন, আলাদা ফ্লোর, আলাদা ম্যানেজার, আলাদা টাইমশিট—কিন্তু বিকেল তিনটা পঁচিশে দুজন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ে একটাই জায়গায়—শিবু কাকার চায়ের দোকানে। হ্যারিসন রোড আর ব্যাঙ্কশাল স্ট্রিটের সংযোগস্থলে ছোট্ট এক টিনের ছাউনি, তিনটে লাল চেয়ার, একটা কেরোসিন স্টোভ, আর একটা চুন-ছোপ খাওয়া…

    read more

  • দ্য চ্যাপলিন প্রজেক্টর

    দ্য চ্যাপলিন প্রজেক্টর

    সৌরদীপ দত্ত পর্ব ১: আলোয় ভেসে ওঠে সাদা-কালো কলকাতার উত্তর দিকের এক অচেনা লাইব্রেরি—“জ্ঞানসাগর পাঠাগার”—এখন কেউ বিশেষ আসে না। একসময় বইপ্রেমিকদের আশ্রয় ছিল এই জায়গা, এখন সেখানে দিনের শেষে শুধু একটাই প্রাণী দেখা যায়—সত্যব্রত রায়। বছর বাহাত্তরের এই বৃদ্ধ লাইব্রেরিয়ান প্রতিদিন সকাল দশটায় দরজা খোলেন, সাড়ে ছটায় বন্ধ করেন, আর মাঝে মাঝে ঘুম ভাঙে কোনো…

    read more

  • ঘুড়ির লেজ

    ঘুড়ির লেজ

    ঋতাংশু পাল অধ্যায় ১: লাল-নীল ঘুড়ির ছেলে ঘটনাটা শুরু হয়েছিল এক মেঘলা বিকেলে, যখন হাওয়ায় অদ্ভুত একটা টান ছিল আর বাঁশবনের পাশ দিয়ে উড়ছিল এক রঙিন ঘুড়ি—লাল-নীল ডানা ছড়িয়ে আকাশে জ্যান্ত পাখির মতো ছুটে বেড়াচ্ছিল। পুরো গ্রামে তখন মাঠ ঘাট ফাঁকা, শুধু একটা ছেলেকে দেখা গেল দূর থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে ঘুড়ির সুতোর টান ঠিক করছে,…

    read more

  • রক্তরাঙা ছাপাখানা

    রক্তরাঙা ছাপাখানা

    অর্ঘ্যদীপ রায় পর্ব ১ কলকাতা, ১৮৫৭। শহরের বুকে তখনও রাত নেমে আসেনি, কিন্তু সূর্যের আলো যেন লুকোচুরি খেলছে কুয়াশা আর ধোঁয়ার আড়ালে। গঙ্গার ধারে, শোভাবাজারের পেছনের এক অচেনা গলির ভিতরে, একটি পুরনো ছাপাখানা নিঃশব্দে নিঃশব্দে জেগে ওঠে প্রতিরাতে। বাইরে থেকে দেখলে কেউ ভাববে—এটি কোনো দেউলিয়া ব্যবসায়ীর বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা। ভাঙা জানালা, ঝুলে থাকা দরজা,…

    read more

  • নীল বিদ্রোহের দিনগুলি

    নীল বিদ্রোহের দিনগুলি

    অনিরুদ্ধ বাগচী নীলচাষের আঘ্রাণ ঘন কালো মেঘ জমেছে আকাশে, যেন আষাঢ়ের শেষের এই সন্ধ্যেটা কোনো অশনি সংকেত নিয়ে এসেছে। শিবপুর গ্রামের গলির মাথায় দাঁড়িয়ে রেণুকা তাকিয়ে ছিল দূরের মাঠের দিকে। ঝুপঝুপ করে বৃষ্টি নামবে—সে নিশ্চয় জানত। কিন্তু বৃষ্টির থেকে বড় ভয় তার মনে বাসা বেঁধেছে আজকাল—নীল সাহেবদের ভয়। এই গ্রামের সব জমিতে এখন আর ধান…

    read more

  • ছায়ার মতো মা

    ছায়ার মতো মা

    মৌসুমী দাস অধ্যায় ১: দুপুরবেলা, পল্লীগ্রামের ছায়াঘেরা এক উঠোনে বসে আছে অরূপ। সামনে একটা ছোট্ট পিড়ি, তার ওপরে ছড়ানো স্কুলের বইখাতা। মাথার ওপর ছাউনি করা খড়ের চাল, পাশে মা-র গামছা দিয়ে ছেঁকে রাখা হাঁড়িতে কাঁচা আম আর ধানের গন্ধ মেশানো ভাত। কাঁচা উঠোনে মাঝে মাঝেই ধুলো উড়ে আসে বাতাসে, আর তাতে বইয়ের পাতাগুলো দুলে ওঠে।…

    read more

  • শেষ বিকেলের আলো

    শেষ বিকেলের আলো

    অরিত্রা মৈত্র ভোরের প্রথম কুয়াশা যখন মাঠের উপর ধোঁয়ার মতো বসে থাকে, তখন কাঁসার ঘরে একটা ঝমঝম শব্দ শোনা যায়। যেন ভোর নিজেই ধাতুর গায়ে হাত বুলিয়ে তাকে জাগিয়ে দিচ্ছে। সেই শব্দের উৎস—হরিপদ কর্মকার, দক্ষিণ ভাদুরিয়া গ্রামের প্রাচীনতম কাঁসারু। তার হাতের চেটো আর আঙুলে শক্তি কমে এলেও, যন্ত্রণা বা ক্লান্তি তাকে থামাতে পারেনি। তার ঘরে…

    read more

  • আঁচল

    আঁচল

    শুভশ্রী হাজরা অধ্যায় ১: সুতোয় বাঁধা স্বপ্ন ঝিরঝিরে হাওয়ায় গঙ্গার ধারে ঢেউ খেলছে পাটের সুতো। আঁচল সরকার ধৈর্যের সঙ্গে তা শুকোতে দিচ্ছে রোদে, শাড়ির রঙ যেন ঠিকঠাক বসে। এ দৃশ্য যেন শুধু শিল্প নয়, একটা স্বপ্নের সূচনা। আঁচলের বয়স মাত্র ২৪। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর মা সুমিত্রা সরকার আর দিদিমা বাসন্তী সরকারই ছিল তার আশ্রয়।…

    read more

  • গাংচিলের ডানা

    গাংচিলের ডানা

    অনন্যা দে অধ্যায় ১: আকাশের দিকে তাকিয়ে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা এই ছোট্ট গ্রামটা এতটাই নির্জন যে মনে হয়, সময় এখানে দাঁড়িয়ে গেছে। লবণের গন্ধ মিশে আছে বাতাসে, আর ঝাউগাছের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের আলো যেন সোনা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এখানে ঘুম ভাঙে ঢেউয়ের শব্দে, আর দিন শেষ হয় পাখির ডাকে। এই গ্রামেই জন্মেছিল রুই। না, বড় কোনো…

    read more