ঈশানী দত্ত
পুরোনো বাড়ির গন্ধ
উত্তর কলকাতার পুরোনো বাড়িগুলোর একটা নিজস্ব গন্ধ থাকে। স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল, পুরোনো কাঠ, ধূপের ধোঁয়া আর বহুদিন ধরে জমে থাকা অন্ধকারের মিশ্রণে তৈরি সেই গন্ধ যেন বাড়ির ভেতরে ঢুকলেই মানুষের শরীরে লেগে যায়। রিমি প্রথম দিন বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে সেই গন্ধটাই টের পেয়েছিল। কলেজ স্ট্রিট থেকে খুব দূরে নয়, পুরোনো এক গলির শেষে দাঁড়িয়ে থাকা তিনতলা বনেদি বাড়ি। লোহার বিশাল ফটকের ওপরে মরচে ধরা নাম— “চৌধুরী ভিলা”। নামের কিছু অক্ষর ভেঙে পড়ে গেছে। দুপুরের আলোতেও বাড়িটাকে অদ্ভুত অন্ধকার লাগছিল।
রিমি কলকাতায় নতুন চাকরি পেয়েছে। একটি প্রকাশনা সংস্থায় এডিটোরিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট। বেতন বেশি নয়, তাই কম ভাড়ার পুরোনো বাড়িটা তার কাছে আশীর্বাদের মতোই মনে হয়েছিল। বাড়ির মালকিন সরযুবালা দেবী বয়সে অনেক বৃদ্ধা। কানে কম শোনেন। প্রথম দিন রিমিকে ঘর দেখাতে গিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন। তাঁর সাদা থান, কাঁপা হাত আর অদ্ভুত নির্লিপ্ত চোখ দেখে রিমির মনে হচ্ছিল এই বাড়ির সঙ্গে মহিলাটাও যেন ধীরে ধীরে পাথরে পরিণত হয়ে গেছেন।
“দোতলায় উঠবেন না রাতে,” হঠাৎ বলেছিলেন তিনি।
রিমি অবাক হয়েছিল। “কেন?”
“ওপরে কেউ থাকে না।”
“তাহলে?”
বৃদ্ধা কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারপর খুব আস্তে বলেছিলেন, “খালি ঘর সবসময় খালি থাকে না।”
কথাটা শুনে রিমি হেসে ফেলেছিল। সে ভূতে বিশ্বাস করে না। কলকাতায় একা থাকা মেয়েদের ভয় দেখানোর জন্য লোকজন নানা কথা বলে। সে এসব পাত্তা দেয় না। নিজের ছোট্ট ঘরটা দেখে তার বরং ভালোই লেগেছিল। উঁচু ছাদ, পুরোনো কাঠের জানালা, একটা ছোট বারান্দা। সমস্যা একটাই— ঘরের ঠিক ওপরে দোতলার একটি জানালা সবসময় বন্ধ। দিনের বেলাতেও। কাঠের পাল্লা কালচে হয়ে গেছে। জানালার নীচে কবুতরের বিষ্ঠা জমে সাদা দাগ তৈরি হয়েছে।
প্রথম রাতেই রিমি ঘুমোতে পারেনি। পুরোনো বাড়ির নানা শব্দ থাকে। কোথাও কাঠ কেঁপে ওঠে, কোথাও জল পড়ার শব্দ হয়। কিন্তু রাত দুটো নাগাদ সে স্পষ্ট শুনেছিল উপরে কেউ হাঁটছে। ধীর পায়ের শব্দ। যেন কেউ ভারী শাড়ি পরে ঘরের ভেতরে হাঁটছে।
সে উঠে বসেছিল।
মোবাইলের স্ক্রিনে ২:১৭।
শব্দটা আবার হলো।
টক।
টক।
টক।
রিমি নিজেকে বোঝালো, পুরোনো বাড়ি। কাঠ বসে যাচ্ছে। ইঁদুরও হতে পারে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরে সে শুনতে পেল আরেকটা শব্দ। জানালায় নখ ঘষার মতো।
খরররর…
তার বুকের ভেতর কেমন ঠান্ডা হয়ে গেল।
সকালে অফিসে গিয়ে সে ঘটনাটা ভুলে গিয়েছিল। কাজের চাপ অনেক ছিল। কিন্তু রাতে ফিরে আবার যখন নিজের ঘরে ঢুকল, তখন অদ্ভুত একটা বিষয় নজরে এলো। দোতলার সেই বন্ধ জানালাটা আধখোলা।
সে থমকে দাঁড়াল।
কাল তো বন্ধ ছিল।
বাড়ির সামনে রাস্তার আলো এসে জানালার ফাঁকে পড়ছিল। ভেতরটা সম্পূর্ণ অন্ধকার। রিমি অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল। তারপর নিজেকে বোকা মনে হলো। হয়তো সকালে কেউ খুলেছে।
সে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করল।
রাত বাড়ল।
বৃষ্টি নামল।
পুরোনো বাড়ির কার্নিশ দিয়ে জল পড়ার শব্দ আসছিল। প্রায় বারোটার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। পুরো বাড়ি অন্ধকারে ডুবে গেল। রিমি মোবাইলের টর্চ জ্বালাতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই বাইরে একটা শব্দ পেল।
খট।
যেন কাঠের জানালা খুলল কেউ।
তারপর খুব ধীরে ধীরে কারও নিঃশ্বাসের শব্দ।
রিমি বারান্দার দিকে এগোল। বুকের ভেতর ধুকপুক করছে। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তার আলো আধো অন্ধকারে দোতলার জানালাটা এবার পুরো খোলা।
আর সেই জানালার ওপারে দাঁড়িয়ে আছে একজন মহিলা।
লম্বা চুল।
সাদা শাড়ি।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি স্থির হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন।
রিমির শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। সে কয়েক সেকেন্ড নড়তেই পারেনি। তারপর হঠাৎ বিদ্যুৎ ফিরে এলো।
আলো জ্বলে উঠতেই জানালাটা আবার বন্ধ।
কেউ নেই।
পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ।
রিমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর দৌড়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। সে নিজেকে বোঝাতে লাগল, এটা চোখের ভুল। আলো-অন্ধকারে ভুল দেখেছে।
কিন্তু ঘুমোতে যাওয়ার আগে হঠাৎ তার চোখ পড়ল দরজার নীচে।
একটা ভেজা পায়ের ছাপ।
ঠিক দরজার বাইরে।
যেন কেউ বৃষ্টিতে ভিজে এসে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল।
বন্ধ ঘরের ভেতর
সকালে ঘুম ভাঙতেই রিমির প্রথমে মনে হয়েছিল রাতের ঘটনাটা দুঃস্বপ্ন ছিল। কলকাতার নতুন জায়গা, পুরোনো বাড়ি, কাজের চাপ— সব মিলিয়ে মাথা গুলিয়ে গেছে। কিন্তু দরজা খুলতেই সে থেমে গেল। ভেজা পায়ের ছাপগুলো এখনও মেঝেতে শুকিয়ে ধূসর হয়ে আছে। মানুষের পায়ের মতো, কিন্তু অদ্ভুত লম্বা। যেন জলে ভিজে ফুলে ওঠা পা।
তার বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে গেল।
সে নিচে নেমে সরযুবালা দেবীকে সব বলল। বৃদ্ধা তখন উঠোনে তুলসীতে জল দিচ্ছিলেন। রিমির কথা শুনে তিনি একবারও অবাক হলেন না। শুধু থেমে গিয়ে খুব ধীরে বললেন, “রাতে জানালার দিকে তাকাবে না।”
“কিন্তু আমি সত্যিই কাউকে দেখেছি।”
“দেখলেও দেখোনি ভাববে।”
“ওখানে কে থাকে?”
বৃদ্ধা এবার চুপ করে গেলেন। তাঁর চোখের ভেতর এমন একটা ভয় ছিল যা বয়সের থেকেও পুরোনো। অনেকক্ষণ পরে তিনি বললেন, “একসময় বড়বউ থাকত।”
“এখন?”
“এখন কেউ নেই।”
“তিনি মারা গেছেন?”
সরযুবালা দেবী মাথা নিচু করলেন। “মানুষ সবসময় মারা গেলে দেহ পাওয়া যায় না।”
কথাটা শুনে রিমির বিরক্ত লাগল। সবাই যেন ইচ্ছে করে ধাঁধা বানিয়ে কথা বলছে। সে আর কিছু না বলে অফিসে বেরিয়ে গেল। কিন্তু সারাদিন তার মাথার ভেতর একই ছবি ঘুরছিল— অন্ধকার জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা সাদা শাড়ির মহিলা।
অফিসে সহকর্মী তুহিনের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল কয়েকদিন আগে। তুহিন পুরোনো কলকাতার ইতিহাস নিয়ে ভীষণ আগ্রহী। দুপুরে ক্যান্টিনে বসে রিমি হঠাৎ পুরো ঘটনাটা বলে ফেলল।
তুহিন প্রথমে হেসেছিল। “উত্তর কলকাতার পুরোনো বাড়ি মানেই ভূতের গল্প ফ্রি।”
“আমি সিরিয়াস।”
রিমি যখন পায়ের ছাপের কথা বলল, তখন তুহিন একটু চুপ করল। তারপর মোবাইল বের করে জিজ্ঞেস করল, “বাড়িটার নাম কী বললে?”
“চৌধুরী ভিলা।”
নাম শুনেই তুহিনের মুখ বদলে গেল।
“তুই ওই বাড়িতে থাকিস?”
“হ্যাঁ। কেন?”
তুহিন কিছুক্ষণ স্ক্রিনে খুঁজল। তারপর মোবাইলটা রিমির দিকে বাড়িয়ে দিল। কয়েক বছর আগের একটা খবর। শিরোনাম—
“উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ গৃহবধূ।”
খবরে লেখা, বাড়ির বড় ছেলে অরিন্দম চৌধুরীর স্ত্রী নন্দিতা চৌধুরী এক রাতে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। পুলিশ আত্মহত্যার সন্দেহ করেছিল, কারণ দোতলার ঘরে রক্ত পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু মৃতদেহ কখনও পাওয়া যায়নি। কয়েক মাস পর কেস বন্ধ হয়ে যায়।
রিমির হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
“কত বছরের পুরোনো ঘটনা?”
“প্রায় পনেরো বছর।”
“তারপর?”
“লোকজন বলে ওই বাড়িতে নাকি রাতে জানালায় একজন মহিলাকে দেখা যায়।”
রিমি আর কথা বলতে পারছিল না।
সেদিন রাতে বাড়ি ফেরার সময় থেকেই তার ভেতরে অদ্ভুত চাপা ভয় কাজ করছিল। গলির ভেতর ঢুকতেই মনে হলো বাড়িটা যেন দূর থেকে তাকিয়ে আছে। ওপরে সেই জানালা আবার বন্ধ।
সে দ্রুত ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল।
রাত এগারোটা পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। তারপর হঠাৎ উপরের ঘর থেকে ভারী কিছু টেনে নিয়ে যাওয়ার শব্দ এলো।
ঘষসসস…
যেন কাঠের আলমারি সরানো হচ্ছে।
রিমি কান চেপে বসে রইল। কিছুক্ষণ পরে শব্দ থেমে গেল। তারপর খুব আস্তে একটা গুনগুন গান ভেসে এলো। মহিলা কণ্ঠ। পুরোনো বাংলা গান।
“ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা…”
তার গা কাঁটা দিয়ে উঠল।
সে সাহস করে বারান্দায় বেরোল। দোতলার জানালাটা আজও আধখোলা। ভেতরে ক্ষীণ আলো জ্বলছে। হলদেটে আলো। যেন কেরোসিন ল্যাম্প।
রিমি তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ দেখল, জানালার ফাঁক দিয়ে একটা মুখ ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে।
ফ্যাকাশে।
চোখদুটো সম্পূর্ণ কালো।
গলার ডানদিকে কালচে কাটা দাগ।
মহিলাটা স্থিরভাবে নিচে তাকিয়ে আছে।
রিমির শরীর জমে গেল। সে চিৎকার করতে পারল না। শুধু দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর মহিলাটা খুব ধীরে একটা হাত তুলল।
ইশারা করল।
উপরে আসতে।
ঠিক তখনই রিমির পেছনে কারও কাঁপা গলা শোনা গেল।
“যেও না।”
সে ঘুরে দাঁড়াল।
সরযুবালা দেবী দাঁড়িয়ে আছেন অন্ধকারে।
তাঁর চোখে আতঙ্ক।
“যে ওপরে যায়,” তিনি ফিসফিস করে বললেন, “সে আর আগের মতো ফিরে আসে না।”
নন্দিতার ঘর
সেই রাতের পর রিমি আর স্বাভাবিক থাকতে পারল না। অফিসে কাজ করতে বসলে তার মনে হচ্ছিল কেউ পেছন থেকে তাকিয়ে আছে। বাড়ি ফেরার সময় গলির মুখে পৌঁছোলেই বুকের ভেতর অকারণে ধুকপুক শুরু হয়ে যেত। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয়— এখন সে প্রায় প্রতি রাতেই সেই গুনগুন গান শুনতে পায়।
“ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা…”
একই সুর।
একই ভাঙা কণ্ঠ।
মাঝরাতের পর দোতলা থেকে ভেসে আসে।
সরযুবালা দেবী এরপর আর কিছু বলতে চাননি। যতবার রিমি নন্দিতার কথা জিজ্ঞেস করেছে, বৃদ্ধা শুধু এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু ভয় আর কৌতূহলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মানুষ শেষ পর্যন্ত ভয়কে ভুলে যায়। রিমিরও তাই হলো।
তৃতীয় রাতেই সে সিদ্ধান্ত নিল, ওপরে যাবে।
রাত একটা নাগাদ পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে গেলে সে দরজা খুলল। হাতে মোবাইলের টর্চ। পুরোনো কাঠের সিঁড়ি দোতলার দিকে উঠে গেছে। দিনের বেলাতেও সিঁড়িটা অন্ধকার থাকে। আজ যেন আরও কালো।
প্রথম ধাপে পা দিতেই শব্দ হলো।
ক্যাঁচ…
রিমির গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল। সে ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে লাগল। বাতাসে পুরোনো আতরের গন্ধ। খুব মিষ্টি কিন্তু পচা। যেন বহুদিনের পুরোনো ফুল।
দোতলার করিডোরে পৌঁছে সে থেমে গেল।
দীর্ঘ অন্ধকার বারান্দা। দুপাশে বন্ধ দরজা। দেয়ালে পুরোনো পারিবারিক ছবি। বেশিরভাগ ছবির মুখ আর্দ্রতায় নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু এক ছবিতে রিমি স্পষ্ট দেখতে পেল এক তরুণীকে। সাদা শাড়ি। বড় বড় চোখ। ঠোঁটে চাপা হাসি।
নন্দিতা।
ঠিক সেই মুখ।
তার বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল।
করিডোরের একেবারে শেষে যে ঘরটা, তার দরজা আধখোলা। ভেতর থেকে হলদেটে আলো বেরোচ্ছে। আর সেই গুনগুন গান।
রিমি কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে দরজাটা ঠেলে খুলল।
ঘরের ভেতরে ঢুকেই তার মনে হলো যেন সময় থেমে গেছে।
পুরো ঘরটা পনেরো বছর আগের মতো সাজানো। কাঠের ড্রেসিং টেবিল, পুরোনো আয়না, খাটের ওপর লাল বেনারসি ভাঁজ করে রাখা। টেবিলের ওপর শুকিয়ে যাওয়া গোলাপ। অথচ এত বছর কেউ থাকেনি এখানে।
কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত জিনিসটা ছিল আয়নাটা।
আয়নাতে রিমির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছিল না।
সে জমে গেল।
ঠিক তখনই গুনগুন গান থেমে গেল।
ঘরের কোণ থেকে একটা মৃদু ফিসফিস শব্দ এলো।
“এতদিন পরে এলে?”
রিমি ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
খাটের পাশে একজন মহিলা বসে আছেন।
সাদা শাড়ি।
লম্বা চুল।
মুখ নিচু।
রিমির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। সে পিছিয়ে যেতে চাইল, কিন্তু পা নড়ল না।
মহিলাটা ধীরে মুখ তুললেন।
নন্দিতা।
চোখদুটো অস্বাভাবিক কালো। ঠোঁটের কোণে শুকনো রক্তের মতো দাগ। কিন্তু মুখে অদ্ভুত শান্ত হাসি।
“তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছ,” তিনি বললেন।
কণ্ঠস্বর খুব নরম।
রিমি কাঁপা গলায় বলল, “আপনি… কে?”
মহিলাটা হাসলেন। “এই বাড়িতে সবাই নাম ভুলে গেছে। তুমিও ভুলে যাবে।”
ঘরের বাতাস হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল। রিমির মনে হচ্ছিল তার মাথার ভেতর কেউ ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ছে।
“আপনি কি নন্দিতা?”
মহিলাটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “ওরা বলেছিল আমি মরে গেছি।”
“তাহলে?”
“মৃত মানুষরা কি অপেক্ষা করে?”
কথাটা শেষ হতেই ঘরের দরজা হঠাৎ নিজে থেকে বন্ধ হয়ে গেল।
ধাম।
রিমি চমকে উঠল।
মোবাইলের টর্চ নিভে গেল।
পুরো ঘর অন্ধকার।
তারপর খুব কাছে কারও নিঃশ্বাসের শব্দ।
একেবারে কানের পাশে।
“ওরা আমাকে খুঁজে পায়নি কারণ আমি এখনও এখানেই আছি।”
রিমি চিৎকার করে উঠল। সে অন্ধকারে দরজা খুঁজতে লাগল। হাত কাঁপছে। ঠিক তখনই তার আঙুলে ঠান্ডা কিছু ছুঁয়ে গেল।
মানুষের হাত।
বরফের মতো ঠান্ডা।
অন্ধকারের ভেতর নন্দিতার গলা শোনা গেল—
“জানালাটা কেউ খুলতে পারে না।”
তারপর ফিসফিস করে—
“ভেতর থেকে ছাড়া।”


