Bengali horror story
-
নির্বাক ঘড়ি
সৌরভ ভৌমিক দোতলা বাংলোটির রং ছিল ছাই ধূসর, যেন রোদে পোড়া কোনও পুরোনো অ্যালবাম থেকে উঠে এসেছে। জানালার কাচগুলো ঘোলাটে, কাঠের পাল্লায় পোকায় ধরা ক্ষতচিহ্ন। হেমন্তের পড়ন্ত বিকেলে গাড়ির শব্দ থেমে গেলে মৃদু হাওয়া বইছিল পুরনো বাগানের ঘাসের গায়ে। গাড়ির দরজা খুলে নামলেন সায়ন আর রীতা। নবদম্পতি, শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে খানিক দূরে এক নিঃসঙ্গ…
-
ছায়ার নিচে বাড়ি
শুভ্রনীল দত্ত পর্ব ১: ফিরে আসা বাড়িটার নাম মধুবন কোঠি হলেও সেখানে এখন আর মধু নেই, নেই কোঠির আভিজাত্য। কয়েক দশক আগেও যেখানে চিত্রশিল্পীরা আসতেন রং তুলিতে ধরতে তার সৌন্দর্য, এখন সেখানে কেবল ধুলো, ঝোপঝাড় আর খালি জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া সময়। ঋদ্ধি মেট্রো থেকে নেমে টোটো ধরে পৌঁছাল গ্রামের মোড় পর্যন্ত। বাকিটা হেঁটেই…
-
সন্ধ্যার পর কেউ আসে
অরিন্দম বসু লালগ্রাম—একটা ছোট্ট, প্রায় ভুলে যাওয়া গ্রাম দক্ষিণবঙ্গের এক প্রান্তে। জনসংখ্যা হাতে গোনা, কিন্তু কাহিনির অভাব নেই। দিন যতই আধুনিক হোক, লালগ্রাম সন্ধ্যা নামতেই আজও হারিয়ে যায় অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতায়। কেউ বলে, এই সময়ে কেউ আসে। কাকে বলা হয় “কেউ”? কেউ জানে না। দেখা যায় না তাকে। কিন্তু তার উপস্থিতি অনুভব করা যায়—মনে হয়…
-
নিশির ডাক
ঋধিমান বসু মাঝরাতে সেই ডাকটা আবার এল। “সু-র-জ…” নরম, স্নিগ্ধ অথচ ভয়ানকভাবে গভীর সেই আওয়াজ যেন কানে নয়, সোজা মগজে ঢুকে পড়ে। গায়ের রোম খাড়া করে দেয় এমন এক সুরে, যেন হাজার বছর আগের কোনো প্রতিজ্ঞার স্মৃতিচিহ্ন বাজছে। তিন মাস হলো সূরজ সাঁতরাগাছির এই পুরোনো ভাড়াবাড়িতে উঠেছে। চাকরির কারণে কলকাতা থেকে দূরে, একটু নিরিবিলি জায়গা…




