আত্মা
-
বনভূতৰ হাহাকাৰ
অভিসাৰ দত্ত দিব্ৰুগড়ৰ উত্তৰে, ব্ৰহ্মপুত্ৰৰ কিনাৰত বিস্তৃত হৈ থকা এখন ঘন বনৰ নাম মানুহৰ মুখে মুখে খুব কমেই উচ্চাৰিত হয়—“বনভূতৰ বন”। মানচিত্রত তাৰ কোনো বিশেষ চিহ্ন নাই, কিন্তু স্থানীয়সকলৰ মনত ই এক ভয়ংকৰ অন্ধকাৰ সঁচা। বহু বছৰৰ পৰা কিম্বদন্তি চলি আহিছে যে এই বনতে প্ৰৱেশ কৰা মানুহবোৰ কেতিয়াও উলিয়াই আহে নে নাই, সেয়া কোৱা কঠিন।…
-
অগ্নিসূত্র
তনিমা বসাক পর্ব ১: অজ্ঞাত সংলাপ কলকাতার গ্রীষ্মের বিকেল যখন কাচে ধাক্কা মারে, মনের ভেতরের অতীত-বর্তমানও তখন এক অদ্ভুত তাপমাত্রায় কাঁপে। ড. অরণ্য সেন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, বাইরের ঝিম ধরা রোদ আর ঘামচাপা শহরের ভাঁজে ভাঁজে যতসব অদেখা গল্প জমা হচ্ছে, তার দিকে তাকিয়ে। তাঁর চেম্বারটি শহরের দক্ষিণে, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছাকাছি, চতুর্থ তলায়, চুনে…
-
ঝর্ণার জ্বালানি
সঞ্জয় দে এক ঝর্ণাটির সামনে দাঁড়িয়ে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করে যুবকটি, যেন এই নির্জন জলপ্রপাত এক গভীর নিঃশব্দ ডাক ছুঁড়ে দিচ্ছে তার বুকের ভেতর। গ্রামের একপ্রান্তে ঘন জঙ্গলের পেছনে লুকিয়ে থাকা সেই বিশাল ঝর্ণা, দিনের আলোয় যেন স্বচ্ছ অথচ রহস্যে মোড়া। জনশ্রুতি বলে, এই ঝর্ণায় কেউ একবার ঢুকলে আর ফিরে আসে না—আর এমন নিখোঁজের…
-
চৌরঙ্গীর অমাবস্যা
তিথি বসু পর্ব ১: তাবিজওয়ালা ঘর শহরের কোলাহলের মাঝখানে, যেখান থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঝাপসা দেখা যায়, সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে চৌরঙ্গীর একটি পুরনো হোটেল—‘হোটেল সম্রাট’। বাইরে থেকে দেখলে আধুনিক মনে হলেও ভিতরে ঢুকলেই যেন সময় পিছিয়ে যায়—ফিকে আলো, সাদা কাঠের জানালা, আর মোটা মোটা পর্দা যা আলো ঢুকতে দেয় না। সেই হোটেলের ৩১৫ নম্বর ঘর থেকে…
-
অরুণপুকুরের মেয়ে
দেবযানী ভট্টাচার্য এক বীরভূমের প্রত্যন্ত এক গ্রামে অবস্থিত অরুণপুকুর—চারপাশে শাল, মহুয়া, আর শিমুল গাছে ঘেরা এক নিঝুম জলাশয়, যেটিকে ঘিরে রয়েছে শত গল্প, শত কানাঘুষো। দিনের বেলায় সেটি যেন নিরীহ; গ্রামের মহিলারা সেখানে জল তোলে, শিশুরা খেলে। কিন্তু সূর্য ঢলে যাওয়ার পর সেই পুকুরের ঘাট কেমন যেন থমকে যায়। পাখিরা উড়ে যায় অন্য দিকে, কুকুরগুলো…
-
চৌধুরীবাড়ির শেষ অতিথি
তিথি বসু পর্ব ১: সেই ভগ্নপ্রায় দরজার শব্দ নদীয়ার কুয়াশা ঢাকা বিকেলে ট্রেন থেকে নামতেই শুভমর মনে হলো সময়টা যেন হঠাৎ করে থমকে গেছে। বাইরের হাওয়া ঠান্ডা, কিন্তু বাতাসের মধ্যে কিছু একটা গুমোট। সে ব্যাগপত্র গুছিয়ে রিকশাওয়ালার দিকে এগোল। “চৌধুরীবাড়ি যাবেন?” জিজ্ঞেস করতেই রিকশাওয়ালার মুখটা কেমন থমথমে হয়ে গেল। “চৌধুরীবাড়ি? ওই যে শ্মশানের পাশে যেটা?”…
-
ভূতের হাসি
সঞ্জয় দে পর্ব ১: বাড়ির রহস্য অভিজিৎ ছিল ইতিহাসের ছাত্র। তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল পুরনো বাড়িগুলোর ইতিহাস খোঁজা, বিশেষত সেগুলোর যেগুলো সময়ের সাথে হারিয়ে গেছে অথবা কেউ তাদের কাহিনী জানে না। একদিন, তার বন্ধু প্রীতম তাকে একটি পুরনো বাড়ির কথা জানায়, যে বাড়ি সম্পর্কে নানা গুজব ছড়িয়ে আছে। লোকজন বলে, এখানে অদ্ভুত হাসির শব্দ…
-
অন্তহীন অন্ধকারে
অনির্বাণ ঘোষ অদ্ভুত ধ্বনি গাঁয়ের শেষ সীমানায়, ঘন জঙ্গল আর বুনো পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল বহুতলা ভুতের বাড়ি, যেখানে কোনোদিন মানুষের পা পড়েনি। গাঁয়ের বয়স্করা বলতেন, “এ বাড়ি শাপিত, এখানে বাস করা লোকের ভাগ্য বিপর্যস্ত।” কিন্তু আধুনিক যুবকরা এসব অন্ধবিশ্বাসকে গা ছেড়ে দিয়েছিল, আর তার মধ্যে এক জন ছিল আরিফ। এক রহস্যপ্রেমী সাংবাদিক, যিনি শহর…
-
কালীপুরাণের পর্দা
শঙ্খ সেন অজানা ডাক কলকাতার একটি প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ছাত্রী সুমি। বয়স তেইশ, তীব্র কৌতূহল এবং অদম্য সাহস তার মধ্যে মিশে রয়েছে। সে বিশ্বাস করে, পুরোনো গল্পগুলো সত্যি না হলেও, তাদের মধ্যে কিছু না কিছু গভীর অর্থ থাকে। কিন্তু এই বিশ্বাস কখনোই এত শক্তিশালী হয়ে উঠেনি যতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যখন সে প্রথমবারের মতো…
-
চরকালীর দানব
শুভ্রজিৎ দত্ত অধ্যায় ১: চরকালী গ্রামটি একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়া তেমন পড়েনি। চারপাশে শুধু সবুজ ক্ষেত-খামার, নদী এবং পুরনো বাড়ি-ঘর। তবে গ্রামের সবচেয়ে রহস্যময় স্থান ছিল তার পুকুরটি। পুকুরটির পানি এমন স্বচ্ছ ছিল, যা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করত, কিন্তু তার নিচে এক অদৃশ্য বিপদ lurked করত। স্থানীয়দের মধ্যে একটি গুজব প্রচলিত ছিল…
-
অঘোরীর চোখ
শুভাশীষ পাল পর্ব ১: পাহাড়ের গা থেকে যাত্রা শিলিগুড়ি থেকে জিপ ছাড়ল সকাল আটটায়। ঋষভ জানালার ধারে বসে রেকর্ডারটা হাতে নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে একটা লাইন বলল, “আজ আমরা যাচ্ছি দার্জিলিং জেলার গভীর এক গ্রামে, যেখানে এখনও লোকমুখে ভয়ের সুরে উচ্চারিত হয় এক অঘোরী তান্ত্রিকের নাম—ভৃগুনাথ।” শান পিছনের সিটে বসে ক্যামেরার ব্যাগ আঁকড়ে ধরেছিল। মাথায়…
-
ভূতের প্রেমে চার পাগল
রক্তিম জানা বাড়িটা একটু বেশিই ঠান্ডা বিকেল পাঁচটা বাজতে না বাজতেই চারজন দাঁড়িয়ে ছিল পাণ্ডুগ্রামের পুরনো ‘সিংহবাড়ি’র সামনে। সাদা রঙের ছোপ ছোপ দেয়াল, বড় বড় কাঠের জানালা, আর ছাদের কিনারা দিয়ে বেয়ে নামা আগাছা দেখে মনে হচ্ছিল বাড়িটা কাঁদছে। “এই বাড়িতেই না তোর মামাবাড়ি ছিল, বুদু?”— প্রশ্ন করল চঞ্চল, যার চশমার কাঁচের পেছন থেকে সবসময়…












