হাস্যকৌতুক
-
দেবদাসের ফেরত আসা
তপোভন দত্ত পর্ব ১: ফেরার প্রথম দৃশ্য “ডাইরেক্ট নেমে যা বাস থেকে, তোকে কেউ ফুল নিয়ে স্বাগত জানাবে না!” — বাসের কন্ডাক্টরের চিৎকারে ঘুম ভাঙল দেবদাসের। চোখ খুলতেই সামনের দৃশ্য দেখে নিজের চোখে বিশ্বাস হচ্ছিল না — এই তো তার চেনা গ্রাম, নারায়ণপুর। পঁচিশ বছর বাদে ফিরে এসেছে, চুলে পাক ধরেছে, পকেটে এখন আর প্রেম…
-
ভূতের হোস্টেল
কলকাতার উত্তরে অবস্থিত “চন্দ্রমোহন কলেজ”-এর হোস্টেলটা শহরের মধ্যে হলেও একেবারে বাইরের অংশে পড়ে। চারদিকের কোলাহলের মধ্যেও হোস্টেলের গেট পেরোনোর পরেই যেন এক অদ্ভুত নীরবতা আচ্ছন্ন করে রাখে জায়গাটাকে। পুরনো লাল ইটের বিল্ডিং, জংধরা লোহার গ্রিল, আর হোস্টেলের চারপাশে ছড়ানো অশ্বত্থ ও কৃষ্ণচূড়ার গাছগুলো যেন দিনের বেলাতেও ছায়া ফেলে রাখে আশপাশে। সোহম মুখার্জি, সদ্য কলেজে ভর্তি…
-
অফিসের ওঝা বাবু
রূপম মৈত্র অধ্যায় ১: আগমন শুভ হউক সকাল সাড়ে ন’টায় ‘Eastern Cloudwave Solutions’-এর রিসেপশনে এক নতুন মুখ। মাথায় টাক, কপালে লাল চন্দনের তিলক, হাতে রুদ্রাক্ষের মালা, কাঁধে একটি ছোট ব্যাগ, আর গলায় গামছার মতো হলুদ স্কার্ফ। নাম তপন কুমার ওঝা। ড্রয়িং-রুম থেকে উঠে আসা না-খাওয়া বাবাজীর মতো চেহারা দেখে রিসেপশনিস্ট জুয়েলী প্রথমে ভেবেছিল, হয়তো ভুল…
-
ভূতের হাসি
সঞ্জয় দে পর্ব ১: বাড়ির রহস্য অভিজিৎ ছিল ইতিহাসের ছাত্র। তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল পুরনো বাড়িগুলোর ইতিহাস খোঁজা, বিশেষত সেগুলোর যেগুলো সময়ের সাথে হারিয়ে গেছে অথবা কেউ তাদের কাহিনী জানে না। একদিন, তার বন্ধু প্রীতম তাকে একটি পুরনো বাড়ির কথা জানায়, যে বাড়ি সম্পর্কে নানা গুজব ছড়িয়ে আছে। লোকজন বলে, এখানে অদ্ভুত হাসির শব্দ…
-
প্রেমপত্র বিভ্রাট
সৌভিক ভট্টাচার্য ১ সৌমিক দে নামের সেই সাধারণ ছাত্রটির জীবন ছিল একঘেয়ে – সকালে স্কুল, বিকেলে টিউশন, রাতে মা-বাবার বকুনিতে পড়াশোনা। ক্লাস নাইনের গড়পড়তা ছাত্র সে, কিন্তু তার চোখে একটা স্বপ্ন লুকিয়ে ছিল—মীনাক্ষী সেন। হ্যাঁ, সেই মেয়েটি যে আঁকা-আঁকিতে দুর্দান্ত, প্রতিটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতে আনে, আর যার হাসিতে সৌমিকের হৃদয়ের কাঁপুনি বেড়ে যায়। মীনাক্ষী…
-
জিরো-জী সুন্দরী
সঞ্চারী নাথ মঙ্গলেও চা মঙ্গল গ্রহের লালাভ আকাশের নিচে গড়ে উঠেছিল ‘জিরো-জী টাউন’—ভারতীয় বাঙালিদের প্রথম মহাকাশ উপনিবেশ। মাধ্যাকর্ষণ প্রায় শূন্য, তাই সবকিছু ভাসমান, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। এই শহরের মাঝখানে ভাসমান ছোট্ট এক ক্যাপসুল, যার নাম ‘চা-রকেট’। চন্দন ঘোষ, বয়স তিরিশের কাছাকাছি, ‘চা-রকেট’ চালান। তার বানানো চায়ের স্বাদে মঙ্গলবাসীর হৃদয় জয় করেছে।…
-
ফ্ল্যাট নাম্বার ৪২০
অভীক ভট্টাচার্য পর্ব ১: পুলকের আগমন মেঘমল্লার হাউজিং-এর D ব্লকের চতুর্থ তলার ৪২০ নাম্বার ফ্ল্যাটে এক আশ্চর্য বিকেলে ঢুকল নতুন ভাড়াটে—পুলক চ্যাটার্জি। বয়স পঁয়ষট্টির ঘরে, চুলে পাক ধরেছে, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, আর কাঁধে একটা জীর্ণ রেক্সিনের ব্যাগ। তবে যে জিনিসটা প্রথমেই নজর কাড়ল তা হলো তাঁর বুকের উপর ঝোলানো একটা প্ল্যাকার্ড: “I AM RETIRED…
-
হরিদাসের হেয়ার স্টাইল
শ্যামল সেন অধ্যায় ১ হরিদাস চট্টোপাধ্যায়, পাড়ার সকলে যাকে আদর করে হরিদাস কাকা বা হরিদাস বাবু বলে ডাকে, তিনি উত্তর কলকাতার এক পুরনো ভাড়াবাড়িতে থাকেন। তাঁর বয়স পঞ্চান্ন ছুঁইছুঁই, চেহারায় মোটাসোটা, গায়ের রঙ গমগমে, মাথার সামনের দিকে টাক, আর পিছনের দিকে কিছু ঝাঁকড়া চুল, যেগুলো তিনি প্রতিদিন সকালে খুব যত্ন করে সিঁদুরি তেল মাখিয়ে আঁচড়িয়ে…
-
ফুচকা ফাইটারস ইউনিয়ন
তৃষা দাস ১ শিয়ালদহ স্টেশনের গেট নম্বর তিনের সামনের ছোট্ট চা-দোকানটার পাশে একটা ঝাপসা বেঞ্চে প্রতিদিনের মতই বসেছিল রিঙ্কু দা, হাতে আধখানা তেলে ভাজা খবরের কাগজে মোড়ানো চপ, মুখে থেমে থেমে ভাঙা ভাঙা আওয়াজে কোন রাজনৈতিক দলের ইস্তেহার পড়ছিল। তার পাশে বসেছিল বুবুন, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, মোবাইল স্ক্রিনে বাজেট ফুচকার রেট যাচাই করতে করতে…
-
ভূতের হেঁসেল
সুশান্ত নস্কর অধ্যায় ১: উল্টোপাড়ার পোস্টমাস্টার নতুন পোস্টিং নিয়ে নবীনচন্দ্র যখন উল্টোপাড়া নামক গ্রামে পা রাখে, তখন সূর্য প্রায় অস্ত যায় যায়। কাঁকর-পাথরের রাস্তা ধরে রিকশা করে এসে সে নেমে পড়ে পোস্ট অফিসের সামনের ছোট্ট উঠোনে। চারদিকে ঝুপঝুপে গাছ, গাছের ফাঁক দিয়ে ছোট্ট করে দেখা যায় লালচে রঙের কাঠের দরজাওয়ালা সেই অফিসঘরটা। তার সঙ্গে গাঁয়ের…
-
ভূতনাথের বদলি চাকরি
হিমাদ্রি মিত্র পর্ব ১: ভূতনাথের বদলির চিঠি ভূতনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন এক অনবদ্য মানুষ—সাহিত্যপ্রেমী, টুপিপরা, চটি পরা, গম্ভীর অথচ দয়ালু। তিনি ছিলেন পূর্ব বর্ধমানের গোপালপুর হাইস্কুলের একজন নামকরা বাংলা শিক্ষক। তবে আজ যা লিখছি, তা তার মৃত্যুর পরের গল্প। কারণ ভূতনাথ, নামের মতোই, এখন একজন পুরোদস্তুর ভূত। মৃত্যুর পর বেশ কয়েক বছর ধরে ভূতনাথ গোপালপুর স্কুলের…
-
হাঁসের সাইকেল
বটুকেশ্বর পাল পটাশপুর গ্রামের নাম যাঁরা শুনেছেন, তাঁরা জানেন—এই গ্রামে জিনিসপত্র যত পুরনো, তার চেয়ে বেশি পুরোনো মানুষের বিশ্বাস। কিন্তু এই প্রাচীন চিন্তার ঢেউয়ে মাঝেমাঝে উঠে আসে এক-একটা অদ্ভুত ঢেউ, যেমন হরিপদ কাকা। উনি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নিজেকে “গাঁয়ের গ্যালিলিও” বলেই দাবি করেন। যদিও কাকার অঙ্কে তেমন হাত ছিল না—শ্রেণি সাত অবধি পড়েছেন, তারপরে…












